৬ বছর পর জানা গেলো বাড়িওয়ালার স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের জেরে হত্যা

0 ৪০

গাজীপুরের কাশিমপুরে বাড়িওয়ালার স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের জেরে গলা কেটে ঝুট ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামকে হত্যা করেছেন বাড়ির মালিক ও তার সহযোগীরা। প্রায় ছয় বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিহত আরিফুল ইসলাম (৩৫) পাবনার চাটমোহর উপজেলার কুয়াবাসী গ্রামের মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ি এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে সাইদুর রহমান শাহীন সরকার (৫৮), একই এলাকার দেওয়ান জহিরুল ইসলামের ছেলে মোমিরুল দেওয়ান (৪৮) এবং হাশেম দেওয়ানের ছেলে শরীফ দেওয়ান (৩৩)। তারা ঝুট ব্যবসায়ী।

মাকছুদের রহমান বলেন, জয়দেবপুর থানার (বর্তমানে কাশিমপুর) সুরাবাড়ি এলাকার উসমান মোক্তারের বাড়িতে ভাড়া থেকে কালিয়াকৈরের উত্তর গজারিয়া এলাকার স্ক্যানডেক্স টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় ডাইং সেকশনে কিউসি পদে চাকরি করতেন আরিফুল। প্রায় চার বছর ওই বাড়িতে থাকার পর তিনি ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। মির্জাপুরে ভাড়া বাসায় থাকলেও তিনি প্রায় উসমান মোক্তারের বাসায় আসতেন। চাকরির পাশাপাশি ঝুটের ব্যবসা করতেন। তিনি সুরাবাড়ি এলাকায় কিছু জমি কিনলেও বিরোধের কারণে দখল পাননি। তার স্ত্রী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পাবনায় থাকেন। উসমান মোক্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকার সময় তার স্ত্রীর সঙ্গে আরিফুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর উসমান মোক্তার সহযোগীদের বিষয়টি জানান।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে উসমান মোক্তার ও তার সহযোগীরা আরিফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঝুট বিক্রির কথা বলে ৫০ হাজার টাকাসহ আরিফুলকে ২৫ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে সুরাবাড়ি এলাকার জারা কারখানার পাশের কালিদত্তের বাঁশবাগানে ডেকে আনেন।

সেখানে উসমান ও তার সহযোগীরা আরিফুলকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরদিন ২৬ ডিসেম্বর ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। মর্গে এসে আরিফুলের লাশ শনাক্ত করেন ছোট ভাই।

তিনি আরও বলেন, আরিফুলকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ছোট ভাই। গাজীপুর জেলা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রায় তিন বছর এক মাস ১৪ দিন তদন্ত শেষে রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। পরে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য গাজীপুর জেলা পিবিআইকে নির্দেশ দেন। ক্লুলেস মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত তিন জনকে সোমবার ও মঙ্গলবার গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শাহীন সরকার ও শরীফ দেওয়ান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেফতারকৃত অপরজন মোমিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরিফুল হত্যার ঘটনায় আট জন জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃতরা। ছয় বছর পর হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিবিউন
Comments
Loading...