পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সুখী সিঙ্গেলরা!

0 ১৬

একাকী জীবন হতাশা ও বেদনায় পরিপূরণ। আর যখন আপনার কোন বন্ধু তার জীবনসঙ্গী নিয়ে ঘুরেবেড়ায় তখন আপনার হতাশা আরও দ্বিগুণ পরিমানে বেড়ে যায়। তখন এই একঘেয়ে একাকী জীবনকে অভিশাপ মনে হয়। তাই এই একাকীত্ব ঘোচাতে আমরা নিজেদের জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে সর্বদা ব্যস্ত থাকি।

কিন্তু আপনি কি জানেন এই সম্পর্কে বিজ্ঞান কি বলে? বিজ্ঞানের মতে সিঙ্গেল জীবন কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটিতে রয়েছে আশীর্বাদ। হ্যাঁ, আপনি ঠিক-ই শুনছেন।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী এরিক ক্লাইনেনবার্থ উল্লেখ করেন যে, সিঙ্গেল লোকেরা সামাজিকভাবে বেশি সক্রিয় থাকেন অন্য সবার থেকে।এমনকি তিনি আরো বলেন যে, যেসব শহরে সিঙ্গেল মানুষ বেশি সে স্থানের লোক সমাগম এবং লোক সংস্কৃতি অনেক উন্নত। শুধু তাই নয়, একাকী জীবনের আরও বেশ কিছু সুফল রয়েছে।

প্রথমত, সিঙ্গেল থাকার কারণে আপনি চারদিকে একটি সুন্দর সামাজিক জাল বা নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। সেইসঙ্গে সকলের সঙ্গে অনেক শক্তিশালী একটি বন্ধন আপনি ধরে রাখতে পারেন। এটি নিছক মুখের কথা নয়।

দ্বিতীয়ত, একা থাকলে আপনার শারীরিক ফিটনেস ভাল থাকে। বয়স ১৮ বছর থেকে ৬৪ বছর, এমন ১৩ হাজার লোকের মধ্যে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, যারা তাদের জীবনে কখনই বিয়ে করেননি তারা অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করে থাকেন এবং সর্বশেষ, যদি আপনি একাকী অনুভব করেন, এবং ছুটির দিনগুলো একা একাই কাটান তাতে মন খারাপ করার কিছুই নেই।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সিঙ্গেল ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের উন্নয়ন অন্যান্যদের থেকে বেশি। কারন তারা একা সময় কাটানোর সুযোগ থেকে নিজেদের চিন্তার বিকাশ ঘটানোর প্রচুর সুবিধা পেয়ে থাকেন।

১৯৯৮ এ মার্কিন প্রতিষ্ঠান, ন্যাশনাল সার্ভে অব ফ্যামিলিস এন্ড হাউজহোল্ডস, এর এক গবেষণাপত্র থেকে উপলব্ধিত হয় যে, সিঙ্গেল ব্যক্তিমাত্রই অধিকতর ব্যক্তিগত উন্নয়নের অভিজ্ঞতার বাহক, যা সহস্রাব্দের মানুষের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে -ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যক্তিগত বিকাশ বিবাহিতদের থেকে অবিবাহিত বা সিঙ্গেলদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে থাকে’।

মনোবিজ্ঞানী এমি মরিন তার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘একা সময় একাকী-ই হতে হবে এমন নয়। একাকী সময় মানুষকে বেশি কার্যক্ষম করে তোলে। তাই, সিঙ্গেল জীবন নিয়ে হতাশা না করে, নিজেকে সময় দিন।’

তাই সিঙ্গেল জীবন নিয়ে হতাশ না হয়ে, জীবনের সেই একাকী সময়ে বই পড়ুন, মুভি দেখুন কিংবা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতে পারেন। এতে করে যেমন আপনার সময় কাটবে, তেমনি ব্যক্তিমর্যাদার বিকাশও ঘটবে।

Comments
Loading...