মৃত্যু নদী ‘রিও টিনটো’

0 ২৩

নদী মানুষের জন্য প্রকৃতির দেয়া এক বিশেষ উপহার। আমাদের সামগ্রিক জীবনে নদীর ভূমিকা ব্যাপক। নদীকে ঘিরে আমাদের  জীবনে রয়েছে হাসি কান্না সহ নানা রকমের স্মৃতি। নদী অনেক সময়ই আমাদের প্রান কেড়ে নেয় কিন্তু কখনও যদি এমন হয় যে, আপনি কোন নদীতে ডুব দিলেন আর যখন ভেসে উঠলেন আপনার গায়ে হাড়গোড় ছাড়া আর কিছুই নেই, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে?

অবাস্তব মনে হলেও বাস্তবেই এমন একটি নদী আছে স্পেনে। সেই নদীর নাম ‘রিও টিনটো’। স্প্যানিশ উচ্চারন ˈ’rio ˈtinto’ এর অর্থ হলো লাল নদী। আর এই রিও টিনটো নদীর জলের রং লাল এবং কমলা। এই লাল জলের নদীতে কেউ ডুব দিলে তাকে কঙ্কাল হয়ে উঠতে হবে। তাইতো এই নদীর নাম মৃত্যু নদী।

স্পেনের দক্ষিণ পশ্চিম দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদীটির উৎস আন্দালুসিয়া পর্বতে। এ নদীটি মাইন খননের সময় উৎপন্ন হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০০ মাইল । প্রাচীনকাল থেকেই, কপার, রুপা, সোনা এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থের জন্য নদীর তীরে খনন করা হয়েছিল। অতীতে সেই মাইন খননের সময়ই উৎপন্ন হয়েছিল এই নদীটির।

Rio tinto

 

প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, আইবেরিয়ানস এবং টারার্টেসিয়ানরা প্রথম নদীর তীর খনন শুরু করে।এরপরে একে একে আসে গ্রীক, রোমান ভিজিগথস,এবং মুরসরা। এরপরে দীর্ঘ সময় খনিগুলো পরিত্যক্ত থাকার পরে ১৫৫৬ সালে একে আবার পুনরায় আবিস্কার করা হয়। ১৭২৪ সালে স্পেনের সরকার এখানে আবার খনিজ পদার্থ উত্তলন শুরু করেন।

এই নদীর পানিতে অক্সিজেন নেই। সেই সাথে নদীর পানি অত্যন্ত আম্লিক (এসিডিক) এবং ভারী ধাতু সমৃদ্ধ। নদীর পানিতে রয়েছে প্রচুর ফেরিক আয়রন। এই কারনে নদীটি এত ভয়ঙ্কর। এ নদীর কারণেই এখানকার অনেক গ্রাম স্থানান্তর করতে হয়েছে। এমনকি নদীটি বেশ কয়েকটি আস্ত পাহাড়কেও গ্রাস করেছে।

তবে এখনও কিছু জীবন বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করছে। তাদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া অন্যতম। যে কারণে আন্দালুসিয়ার রিও টিনটো নদী এস্ট্রো জীববিজ্ঞানী ও নাসার মনোযোগকে আকৃষ্ট করেছে। নাসা বিশ্বাস করে যে মঙ্গলের ভূগর্ভস্থ এইরকম পরিবেশে ব্যাকটেরিয়াল জীবন টেকসই হতে পারে। উচ্চ অম্লতা মানুষকে এই নদীর পানি থেকে দূরে রাখে,কিন্তু বিজ্ঞানীদের আকর্ষণ করে।

মৃত্যু নদী হিসেবে পরিচিত হলেও এই নদীটি এতোটাই দৃষ্টি নন্দিত যে দেখলে মনে হবে আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় আছেন। একে আবার অন্য কোন গ্রহের নদী ভাবলেও ভুল হবে না। তবে যতই সুন্দর হোক, সেই সৌন্দর্যকে অবলোকন করতে হবে দূর থেকেই। কেননা এর কাছে গেলেই যে মৃত্যু।

Comments
Loading...