ঋণের চাপে পুলিশের আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটে ২ জনের নাম

0

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ জেলায় ঋণ করা টাকার চাপে নূর আলম নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোটে তিনি এ কথা লিখে গেছেন। এ ঘটনায় নাহিদ আহমেদ রায়হান নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহ নগরীর জামতলা পুড়াবাড়ি এলাকার নিজ বাসা থেকে নূরে আলমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, নূরে আলম দীর্ঘদিন ধরে এ থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

গত শুক্রবার থেকে ডিউটিতে না আসায় শনিবার খোঁজখবর নিতে তার বাসায় যায় পুলিশ। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর এক পর্যায়ে রাত ৮টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে নূরে আলমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

তিনি আরও জানান, লাশের পাশ থেকে হাতে লেখা তিনটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রথম চিঠিটি মায়ের জন্য, দ্বিতীয় ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ এসআই আকরাম ও তৃতীয় চিঠিটি ময়মনসিংহ পুলিশকে উদ্দেশ্য করে লেখা।

চিঠিগুলোতে তিনি লিখেছেন, বিভিন্ন সময় তিনি মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন। সেই টাকা ফেরত নিতে পাওনাদাররা চাপ দিচ্ছিলো।

অন্যদিকে, নাহিদ ও মোশারফ হোসেন নামে দুই ব্যবসায়ীর কাছে তিনিও টাকা পেতেন। তারা টাকা না দেয়ায় পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না নূর আলম। অবশেষে অপমানের যন্ত্রণা ঘোঁচাতেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি!

সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য এই দুই ব্যক্তিকে দায়ী করে গেছেন নূরে আলম। এ ঘটনায় শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে ব্যবসায়ী রায়হানকে আটক করেছে পুলিশ।

নূরে আলমের বাড়ি জামালপুর জেলা সদরের রঘনাথপুরে। ঘটনার দিন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান জামালপুরে ছিলেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএ নেওয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সুইসাইড নোটে উল্লেখ আছে, সংসারে অভাব অনটনের জন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরও জানান, পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশের ভাস্যমতে, ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে এটা আত্মহত্যা নাকি অন্যকিছু।

Comments
Loading...