‘ছাত্রলীগ নেতাদের তৃতীয় শ্রেণির চাকরি দিয়ে অপমান করা হয়েছে’

0 ৯৯

দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের অধিকাংশকে তৃতীয় শ্রেণির পদে চাকরি দিয়ে তাদের অপমান করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে বিশাল অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করে বিদায় নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্যবিদায়ী ভিসি এম আবদুস সোবহান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিতর্কিত এ নিয়োগকাণ্ড ঘটিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন ভিসি।

নিয়োগে ছাত্রলীগের কথা বললেও ১৪১ জনের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেকসহ আশপাশের বিভিন্ন শাখা ছাত্রলীগের ৪৩ জনের বেশি নেতাকর্মীর নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ছাত্রলীগের চাকরিপ্রাপ্ত নেতারা। এছাড়া দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের অধিকাংশকে তৃতীয় শ্রেণির পদে চাকরি দিয়ে তাদের অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতারা কেউ কেউ আবার চাকরিতে যোগদানও করেননি।

রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাদিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমি ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছি। তারপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছি। তারপরও আমাকে নিম্নমান সহকারীর একটি তৃতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে কারণে চাকরিতে যোগদান করতে চাই না। এতে শুধু আমাকে নয়, ছাত্রলীগ ও অনেক সিনিয়র নেতাকে অপমান করা হয়েছে।

রাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী টুম্পা সাহা ফেসবুকে লিখেছেন- ১৪১ জনের মধ্যে ৩০ জন শাখা ছাত্রলীগের। ইহাতে সবাই ডগমগ করছে। এছাড়াও ছাত্রলীগকে নিম্নমানের পদ দেওয়া হয়েছে। ১৪১ জনের মধ্যে ১০০ জনই ছাত্রলীগ পেল না কেন? এর আগে তো ছেলেমেয়ে ও জামাই কোটায় নিয়োগ দিয়েছেন। এবার বৌমা কোটায় কাদের শিক্ষক বানালেন ভিসি। এর জবাব কে দিবে?

বিশ্ববিদ্যালয় এগ্রোনোমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের ফারুক হাসান নামের ছাত্রলীগের সহসভাপতিকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া সত্ত্বেও উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নিয়োগের জন্য প্রস্তুতকৃত ভিসির সই করা কাগজগুলো গনমাধ্যমের হাতে এসেছে। সেই তালিকায় দেখা গেছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিবারের ৩ জন সদস্য শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যে বিভাগগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জানে না। সেই বিভাগের প্লানিং কমিটিও হয়নি। এর বাইরে কর্মকর্তা পদেও নিয়োগ পেয়েছেন একাধিক শিক্ষকের স্বজন।

এ বিষয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কো-কনভেনার ড. সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা যুগান্তরকে বলেন, কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়োগ না দিলে ভিসি নিয়োগ বাণিজ্য করতে পারতেন না। শুধু তাই নয়, এ অবৈধ নিয়োগকে বৈধ বানাতেই তিনি এ পন্থা বেছে নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের আহ্বায়ক প্রফেসর সুলতানুল ইসলাম টিপু বলেন, বিদায়ী ভিসির এটি ষড়যন্ত্র। ছাত্রলীগের নেমপ্লেট ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিশৃঙ্খল করে গেলেন।

সিন্ডিকেট সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মেরও একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। সদ্যবিদায়ী ভিসির সেটি ছিল না। কথার ফুলঝুরি দিয়ে মানুষকে শুধু বোকা বানাতেন। দীর্ঘদিনের মাস্টার প্লান এ অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন।

এদিকে বিদায়ী ভিসির অবৈধ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদায়ী ভিসি বিভিন্ন পদে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত জনবল নিয়োগ প্রদান করেছেন। অবৈধ জনবল নিয়োগের বৈধতা প্রাপ্তির সুযোগ নেই।

এতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সদ্যবিদায়ী ভিসি এম আবদুস সোবহান শেষ কার্যদিবসে ১৪১ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। পরে পুলিশ প্রটোকলে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন ভিসি সোবহান।

 

Comments
Loading...