পরীমণি মাদক সেবন করতেন: চার্জশিটে সিআইডি

0 ১৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি মাদক সেবন করতেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বনানী থানায় গত ৫ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র‌্যাবের দায়ের করা মামলার এজাহারে পরীমণির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, সিআইডি তদন্তে সেসব অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (৪ অক্টোবর) ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া চার্জশিটে পরীমণি ছাড়াও আশরাফুল ইসলাম দীপু ও কবির হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘র‌্যাব মাদক মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এজাহারে উল্লেখ করেছে, সেগুলোর প্রমাণ মিলেছে। আমরা পরীর বাসা থেকে উদ্ধারকৃত মাদক পরীক্ষা করেছি, তাতে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। পরীমণি মাদক সেবনের জন্য এগুলো তার কাছে রেখেছিল, আমরা সেই প্রমাণও পেয়েছি।’

চার্জশিটে সিআইডি উল্লেখ করেছে, ‘তার বাসা থেকে উদ্ধারকৃত মাদক আইস, এলএসডি ও মদ সে তার সহযোগী দিপু ও কবির হোসেনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতো। তাদেরও তাই এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।’

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতে তিনজনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’

সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের কাছে নায়িকা ও মডেলদের পাঁচটি মামলা ছিল। এদের মধ্যে পরীমণির একটি, পিয়াসার ৩টি ও জিমির একটি মামলা। সবগুলো মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি।

গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগীকে আটক করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় বলে জানান র‌্যাব সদস্যরা। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র‌্যাব সদর দফতরে। পরে র‌্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালত পরীমণির ব্যবহৃত গাড়ি, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ জব্দ করা ১৬টি আলামত তাকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর দুই দিন আগে আদালতে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ দুটি জব্দ তালিকার মোট ১৬টি আলামত পরীমণিকে ফিরিয়ে দিতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, যদি পরীমণিকে তার জব্দকৃত আলামত ও মালামাল ফেরত দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে তদন্তে কোনও বিঘ্ন ঘটবে না।

পরীমণির ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি গাড়ি ও মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ আরও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জব্দকৃত জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে বিআরটিএ থেকে গাড়ির সঠিক মালিকানা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েসের আদালত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ১৯ আগস্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত একদিন, ১০ আগস্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত দুই দিন এবং ৫ আগস্ট একই মামলায় পরীমণির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। তিন দফায় পরীমণিকে মোট সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন দুপুরে সাভার থানায় নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছয় জনের নামে মামলা দায়ের করেন নায়িকা পরীমণি। মামলায় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে পরী বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। আসামিরা বর্তমানে জামিনে বাইরে আছেন।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিবিউন
Comments
Loading...