এসকে সিনহার সহযোগীর ঋণ প্রস্তাবে তোলপাড়

0

বিতর্কিত এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ পাচার সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার অন্যতম এক সহযোগীর প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ প্রস্তাব উপস্থাপন করায় বিপত্তি ঘটে। একজন সদস্য ঋণের বিপক্ষে জোরালো প্রতিবাদ জানালে অপর একজন ঋণ দিতে শক্ত অবস্থান নেন। চাঞ্চল্যকর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর টেবিলে গড়িয়েছে। দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। যার একটি যুগান্তরের হাতেও এসেছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরে গত ১৮ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন। অনুলিপি দেওয়া হয় অর্থমন্ত্রীকে। দুই পৃষ্ঠার অভিপত্রে বলা হয়, গত ২৯ জুন রূপালী ব্যাংকের ১১২৫তম বোর্ড সভায় লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ লিমিটেড ইউনিট-২ অনুকূলে চলতি মূলধন হিসাবে ৭ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি ঋণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ঋণের প্রস্তাবনায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের নাম লেখা ছিল। এই নামের সূত্র ধরে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালনা পর্ষদকে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে অনিরুদ্ধ রায়ের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে আনেন। এরপর তিনি গ্রাহকের কেওয়াইসি (গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য সংবলিত ফরম) সংক্রান্ত নোট সভায় উপস্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা সভায় গৃহীত হয়।

প্রায় দেড় মাস পর গত ১০ আগস্ট ব্যাংকের ১১২৯ তম বোর্ড সভায় কেওয়াইসিসহ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে সেখানে অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের সাধারণ তথ্য ছাড়া বিস্তারিত কিছু ছিল না। এ অবস্থায় পরিচালন দেলোয়ার হোসেন পত্রিকার কাটিংসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেখানে উপস্থাপন করেন। যেখানে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টের এক স্থানে বলা হয়েছে, এসকে সিনহার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মেয়ে সূচনা সিনহার কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং তার স্বামী শাওন বৈদ্যর ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক হিসাবে চার দফায় বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠানো হয়। এসব অর্থ অনিরুদ্ধ রায়ের হংকংয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ইন্দোনেশিয়ার পেনিন ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

এছাড়া পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বোর্ড সভায় আরও জানান, বিচারপতি এসকে সিনহা তার লেখা ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়েও অনিরুদ্ধ রায়ের বিষয়ে তথ্য রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বইটিতে সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বর্ণনা করা হয়েছে। এই তথ্যগুলোকে সামনে এনে দেলোয়ার হোসেন ঋণ দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করেন। কিন্তু একই সময়ে বোর্ডের স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল বাছেত অবস্থান নেন ঋণ আবেদনকারীর পক্ষে। তিনি ঋণ প্রস্তাবের অনুকূলে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন, যা তার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ তিনি মনে করেন, বিদেশে বসে সাবেক প্রধান বিচারপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে কুৎসা রটনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক দেলোয়ার হোসেন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি জরুরি মিটিংয়ে ঢাকার বাইরে আছি। তবে বিষয়টি একটি সমাধানের দিকে যাচ্ছে।’ এর বেশি তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র জানায়, গুরুতর অভিযোগটি অর্থ বিভাগে প্রায় এক মাস আগে জমা পড়লেও সেটি নিয়ে অফিসিয়ালি তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মোস্তফা কামালের আলোচনা করে শিগগির এ বিষয়ে একটি দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। সরকারি সফর শেষে মন্ত্রী জেনেভা থেকে শনিবার দেশে ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, মো. দেলোয়ার হোসেন রূপালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (পরিচালক) ছাড়াও ট্রানসোনিক কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান এবং এস আলম ক্লোড রোল্ড স্টিল মিলের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রধান। তিনি কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাবের সদস্য এবং ইস্ট কোস্ট শিপিং লাইন লিমিটেডের ডিরেক্টর অ্যান্ড ভাইস প্রেসিডেন্ট। অপরদিকে মোহাম্মদ আবদুল বাছেদ খান নারায়ণগঞ্জ অফিসার্স ফোরাম এবং বিনায়ারচর ইসলামিক সেন্টার কমপ্লেক্সের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বিসিএস অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।

jgantor
Comments
Loading...