চারদিন ধরে ‘নিখোঁজ’ ত্ব-হা আদনানকে নিয়ে ফেসবুকে উদ্বেগ

0 ৭৩

চার দিন হয়ে গেলেও খোঁজ মিলছে না আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। অনেকের টাইমলাইনে আবু ত্ব-হার সন্ধান চাই হ্যাস ট্যাগ দেখা যাচ্ছে।

বিষয়টিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অনীহা’ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। অনেকের ধারণা, আবু ত্ব-হা নিখোঁজ হননি, নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। যে কারণে এতোদিন হয়ে যাওয়ার পরও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।

বিষয়টি আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার ভেরিফায়েড টুইটার থেকে নিখোঁজ ত্ব-হা আদনানের সন্ধান চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

এদিকে ত্ব-হার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘নিষ্কৃয়তায়’ ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় এই বক্তার নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তারা।

অনলাইন এক্টিভিস্ট কামরুল আহসান নোমানি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন,  চারটা জ্বলজ্যান্ত মানুষ আচমকা নাই হয়ে গেল এটা নিয়ে কারো যেন কোন ভাবান্তর ই নেই!, ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের তো বিচার চাইবারও কোন জায়গা নেই। এই রাষ্ট্র আমরা গড়েছি। আমাদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা অবলীলায় সয়ে যাচ্ছি সবকিছু। হ্যাঁ একজন আছেন যিনি সব দেখছেন। চূড়ান্ত ফয়সালার দিন প্রত্যেককেই জাররা জাররা হিসাব দিতে হবে। মজলুমের ফরিয়াদ পৌঁছে যাক সাত আসমান তক!

রফিক সুমন লিখেছেন, ‘আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান তিনি কোনো মতাদর্শ বা কোন সংগঠনের এজেন্ডা হিসেবে কাজ করেন না। তিনি শুধু বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কোরআন-হাদিস দ্বারা শেষ জামানার মুসলিম উম্মাহকে কিভাবে হেফাজত করা যায় বা হেফাজতে রাখা যায় সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। এতোদিন ধরে তিনি নিখোঁজ, তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তার কোন খবর আমরা সাধারণ জনগণ গণমাধ্যমে পাচ্ছি না এবং পুলিশি তৎপরতা দেখছি না। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এটা কখনোই মেনে নিতে পারছিনা।’

মোহাম্মদ ইউসুফ আলী লিখেছেন, ‘সাকিব লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙ্গে অন্যায়ের  প্রতিবাদ করেছেন, এই নিয়ে যুবক সমাজের কত স্ট্যাটাস ও বাহবা। মিডিয়ায় এই নিয়ে হরেক রকমের নিউজ। এদিকে হাজারো যুবকের অনুপ্রেরণা ও শেষ যামানা নিয়ে স্রেষ্ঠ আলোচক আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান শায়েখ রংপুর থেকে ঢাকা আসার পথে গুম হয়েছে সে বিষয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথ্যা নেই। মিডিয়ায়ও তেমন কভারেজ দেখছি না। নেই যুবক মুসলিম ভাইদের কোনো প্রতিক্রিয়া। আফসোস!’

প্রশাসনের কাছে দ্রুত তাকে উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়ে তাওহিদুল ইসলাম লিখেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক সংবাদ। উদারপন্থী তরুণ একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ছিলেন। খুব সুন্দরভাবে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতেন। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাবো খুব দ্রুত তাকে উদ্ধার করুন।’

আমাতুল্লাহ লিখেছেন, ‘এই হুজুরের বয়ানে দেশ বিরোধী বা সরকার বিরোধী কিছু শুনিনি। তাকে কি গুম করা হয়েছে? কেন গুম করা হলো? যেখানেই থাকুক আল্লাহ যেন হেফাজত রাখেন, দোয়া রইল, ইনশাল্লাহ।’

ত্ব-হার মুক্তির দাবি জানিয়ে আল আমিন লিখেন, ‘আবু ত্ব-হা আদনান একজন মধ্যপন্থার আলেম। তিনি কারো প্রতি হিংসা পোষণ করেন না। বৃহত্তর উম্মার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। উনার আলোচনায় ইসলামের শত্রু ও তাদের চক্রান্ত দৃশ্যমান হয়ে গেছে। সম্ভবত এই কারণে তাকে গুম করা হয়েছে। আমরা আবু ত্ব-হা আদনান ভাইয়ের মুক্তি চাই।’

নুর মুহাম্মদ লিখেছেন, ‘একজন সৃজনশীল তরুণ ইসলামিক বক্তাকে পেয়েছিলাম যে কিনা আমাদের ঘুণে ধরা সমাজের অরাজকতাগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, অন্ধকার থেকে আলোতে ধাবিত হওয়ার পাথেয় যুগিয়েছেন। সত্য মিথ্যার পার্থক্য বুঝিয়েছেন। উনার সাবলীল জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সকল আলেমদের ছাপিয়ে গেছে।
আজ উনি বিপদাগ্রস্ত শকুনের হিংসাত্মক চোখ তার উপর পড়েছে। এই জমিনের উপরে আসমানের নিচে কেউ কি নেই এগিয়ে আসার মতো এই সত্যের পথের দিশারিকে সন্ধান করার জন্য? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা সকল ষড়যন্ত্রকারী, হিংসুক, জালেমদের হাত থেকে যেন উনাকে হেফাজত করেন। ইসলামের স্বার্থে উম্মাহের স্বার্থে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন, আমিন।’

গত ১০ জুন থেকে রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হওয়ার পর থেকে আবু ত্ব-হার ‘খোঁজ মিলছে না’ বলে জানিয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন ফয়েজেরও খোঁজ মিলছে না।

jugantor

Comments
Loading...