অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না

0 ৭১

বাংলাদেশে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত কমবয়সি শিশুদের চিকিৎসায় প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। ফলে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে।

আইসিডিডিআর,বি এবং ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের (এমজিএইচ) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফল ওপেন ফোরাম ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রোগজীবাণুর প্রতিরোধী হয়ে ওঠা একটি সম্ভাব্য মারাত্মক মহামারির সৃষ্টি করতে পারে, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যেতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি-রনিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস ডিভিশনের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতি গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।

ড. চিশতি গবেষণা পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যখন দেখতে পান, আইসিডিডিআর,বি-হাসপাতালে অনেক নিউমোনিয়া আক্রান্ত কমবয়সি শিশুভর্তি হচ্ছে। আর শিশুরা উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে চিকিৎসার বিরুদ্ধে উচ্চ মাত্রায় প্রতিরোধী জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত।

ড. চিশতি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত অ্যান্টিবায়োটিক এবং শ্বাসতন্ত্রের উন্নততর চিকিৎসা সত্ত্বেও ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তুকয়েক ডজন শিশু নিউমোনিয়ায় মৃত্যুবরণ করে।

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের একটি সংক্রমণ। যার ফলে এর বায়ু থলিগুলোতে তরল পদার্থ ও পুঁজ জমা হয় এবং এতে কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া এই সংক্রমণ প্রাণহানিকর হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, কমবয়সি শিশুদের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ নিউমোনিয়া। এই শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারণেও নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উচ্চ-আয়ের দেশে স্ট্যাফিলোকক্কাস এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার প্রধান কারণ, যা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে চিকিৎসার মাধ্যমে উপশম হয়। শেষের দুটি জীবাণুর ক্ষেত্রে টিকা বিশ্বব্যাপী অসংখ্য জীবন রক্ষা করেছে।

ড. চিশতি এবং তার সহকর্মীরা ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ বছরের কমবয়সি ৪ হাজারের বেশি শিশুর স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রেকর্ড পরীক্ষা করেন।

গবেষণার সহ-প্রধান ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল ফর চিলড্রেনের পেডিয়াট্রিক গ্লোবাল হেলথ বিভাগের প্রধান ড. জেসন হ্যারিস বলেন, দুর্ভাগ্যবশত এসব শিশুর মধ্যে আমরা যে গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া দেখেছি সেগুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় পাওয়া প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় সচরাচর ব্যবহৃত প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রতিরোধী।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব শিশুর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ছিল না তাদের তুলনায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর আশংকা ১৭ গুণ বেশি ছিল।

ড. হ্যারিস বলেন, এসব শিশু ইতোমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে অকালে মারা যাচ্ছে। একই কারণে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ভয়াবহ সংক্রমণের সৃষ্টি হবে।

আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে যেসব কারণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদেশে যারা বিষয়টি সম্পর্কে জানেনা তারা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কিনতে পারে এবং অনেক মানুষ আমাশয়, সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো সাধারণ অসুস্থতায় নিজেরাই অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে নিজেদের চিকিৎসা করে থাকে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার করে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, কানাডা, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

উৎসঃ   juganto
Comments
Loading...