‘ডেল্টা প্লাস’ সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক?

0 ৭৯

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলা অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের কথা, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ডেল্টা প্লাস’ এর জেরে ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে।বিজেপি সরকার ইতোমধ্যে ডেল্টা প্লাস প্রজাতিকে ‘ভ্যারিয়্যান্ট অফ কনসার্ন’-এর আখ্যা দিয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে এতদিন এই প্রজাতি নিয়ে বিশেষ আশঙ্কা করেনি কেউই। কিন্তু এবার এই প্রজাতি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে গেছে। মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ ও কেরালা রাজ্যে করোনার নতুন ধরণ ডেল্টা প্লাস প্রজাতির প্রমাণ মিলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই তিন রাজ্যে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। ভারতে মোট ২২ জন ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এই ভ্যারিয়েন্টে কেন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার উদ্বিগ্ন?ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, গোটা বিশ্বে ২০০ জন সংক্রমিতের মধ্যে ৩০টি কেসই ভারতের। কাজেই অদূর ভবিষ্যতে এই ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেল্টা থেকেই ভাইরাস রূপ বদলে তৈরি হয়েছে ডেল্টা প্লাস। ভারতের ডেল্টা প্রজাতি (বি.১.৬১৭.২) নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব। কেননা, এই প্রজাতি অনেক বেশি সংক্রামক হতে পারে। গবেষণায় অনেক দ্রুত আরও বেশি সংখ্যায় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।কতটা বিপজ্জনক ডেল্টা প্লাস প্রজাতি : বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেল্টা প্লাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে আরও দ্রুত ফুসফুস আক্রমণ করতে পারে। গবেষকরা বলছেন, তারা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে কোষগুলি ফুসফুসের চারপাশে ঘিরে রয়েছে, সেগুলিকে দ্রুত ভেঙে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।এ ছাড়া ডেল্টা প্লাসের ক্ষেত্রে মোনোক্লানাল অ্যান্টিবডি ককটেল খুব একটা কার্যকর নয়। তাই এই প্রজাতিতে আক্রান্ত হলে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এমনই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। জাপান, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯টি দেশে ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে নতুন প্রজাতির ভাইরাস ডেল্টা প্লাস-এর প্রমাণ। যে কোভিড প্রতিষেধকগুলো এখন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো এই নয়া প্রজাতির ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিজ্ঞানী। তবে, এই নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে।

ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ : ইতোমধ্যে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় যে চিত্র পাওয়া গেছে সেটি হচ্ছে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, খাবারে অনীহাভাব ও জয়েন্ট পেন এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণার আরো তথ্য ওইসব নমুনার পাশাপাশি জ্বর, ক্লান্তি, গলায় ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি, চামড়ায় সমস্যা, ডায়েরিয়া, মাথায় যন্ত্রণা, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।করোনা নির্মূলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রচেষ্টা তার প্রতি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতীয়)। গত মঙ্গলবার এক ফোনকলে এ কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত করা হয় ভারতে। এ বিষয়ে ফাউচি বলেছেন, কোভিড-১৯ এর মূল ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে প্রশ্নাতীত বেশি সংক্রামক হলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। রোগের ভয়াবহতা বৃদ্ধির সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে।গত ১৮ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী বলেছেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সারাবিশ্বে রোগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। এর প্রেক্ষিতে ড. ফাউচি বলেছেন, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাসহ যেসব টিকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, তা করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি নিউজ, আলজাজিরা, ইকনোমিক টাইমস।

Comments
Loading...