আত্মহত্যার রাজধানী ভারত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

0 ৩১
প্রতি দুই মিনিট অন্তর একজন ভারতীয় আত্মহত্যা করে
প্রতি দুই মিনিট অন্তর একজন ভারতীয় আত্মহত্যা করে

ঢাকা: ভারতকে আত্মহত্যার রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক দশকের বেশি সময়ের ওপর করা গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি দুই মিনিট অন্তর একজন ভারতীয় আত্মহত্যা করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ একজন নিজের জীবন নিজেই নিয়ে নেন। এর মধ্যে প্রতি তিন জনের একজন ভারতীয়।

২০১২ সালেই ভারতে আড়াই লাখের বেশি মানুষ আত্মঘাতি হয়েছে। অবশ্য ভারতের সরকারি হিসেবে এ সংখ্যা অনেক কম দেখানো হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতে আত্মঘাতী মানুষের মধে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি।

এছাড়া সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে তুলনামূলকভাবে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি। অধিকাংশ আত্মহত্যাকারীর বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।

গবেষণাটির নেতৃত্বদানকারী ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান শেখার সাক্সেনা জানান, ভারতে প্রত্যেক আত্মহত্যাকারী বিপরীতে আরো ২০ জন মানুষ রয়েছে যারা আত্মহত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে।

আত্মহত্যার কারণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন দেশটির চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমসি মিশ্র। তিনি বলেন, ‘সমাজে ক্রমশ বস্তুবাদের প্রাধান্য সৃষ্টি হওয়ায় এই কঠিন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এটা ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে।’ এর কারণ হিসেবে তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত অসাম্য এবং স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অসমান সুযোগকে দায়ি করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতে আত্মহত্যার ঘটনা কমাতে হলে প্রথমেই আত্মহত্যা চেষ্টা অপরাধের তালিকা থেকে মুছে ফেলতে হবে। উল্লেখ্য দেশটিতে আত্মহত্যা একটি অপরাধ। আত্মহত্যায় চেষ্টাকারীকে গ্রেপ্তার করাসহ জেলে ঢোকানোর নিয়মও রয়েছে দেশটিতে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান ও আত্মহত্যার মানসিকতার চিকিৎসার ওপর জোর দেয়া আহ্বা জানানো হয়।

এক্ষেত্রে অন্য একটি মত হচ্ছে, আত্মহত্যায় ব্যবহৃত সামগ্রী যেমন বিষ, ঘুমের ওষুধ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দেয়া হয়। উল্লেখ্য শ্রীলঙ্কাতেও ভারতের মতো আত্মহত্যার হার বেশি ছিল। তবে বিষ ও আত্মহত্যায় ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে আত্মহত্যার হার কমাতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।

Comments
Loading...