আরও ভাল করতে চায় জামায়াত:টার্গেট হাফ সেঞ্চুরি (ভিডিও)

0 ২৯

Jamayatচলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরও ভাল করতে চায় জামায়াত , কমপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে চায় তারা। চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ ধাপে এই টার্গেট পূর্ণ করতে চায় তারা। এজন্য গত তিন পর্বের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তৎপর দলটি। সদ্য সমাপ্ত তিন দফায় ২৯২টি উপজেলায়  নির্বাচনে ২৯টি চেয়ারম্যান, ৮২ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২৫টি উপজেলায় মহিলা ভাইস  চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে জামায়াত। আগামী তিন পর্বে ২১ উপজেলায় জয়ী হলে প্রত্যাশিত টার্গেট পূর্ণ হবে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে চরমভাবে কোণঠাসা দলটির। ২৩শে মার্চ চতুর্থ দফায় ৯২টি ৩১শে মার্চ পঞ্চম দফার ৭৪টি এবং মে-তে ২২টি উপজেলার  ষষ্ঠ ধাপে  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে আগামী তিন পর্বের প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তারা। হামলা মামলা গ্রেপ্তার আতঙ্ক প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে  জামায়াতের তৃণমূলের প্রার্থী নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, পটুয়াখালীর ধুমকি, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ বেশ ক’টি উপজেলায় দলীয় প্রার্থী কর্মী- সমর্থকদের আটক করা হয়েছে। নানা হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া  ১৯ দলীয় জোট বিশেষ করে তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা স্থানীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে তৃতীয় পর্বের নির্বাচনে কমপক্ষে ১৫টি উপজেলায় নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়েছে এই মিত্র জোটের।
তবে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত তিন পর্বের নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের চমকপ্রদ সাফল্য দলের জনসমর্থন বৃদ্ধি হিসেবে  দেখছেন নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাইসহ নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়মের পরও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা  নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। যা জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন জামায়াত নেতারা। তবে বৈরী পরিস্থিতি এবং  কৌশলগত কারণে জামায়াত এই মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোন প্রকার উচ্ছ্বাস প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে। তিন দফায় চেয়ারম্যান পদে ৮১, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩১ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯টিতে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত।  জামায়াতের তথ্য মতে, ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে দলটি চেয়ারম্যান পদে ৭০টিতে প্রার্থী দিয়ে ২৪টিতে বিজয়ী হয়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭১টিতে প্রার্থী দিয়ে ২৭টিতে এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬টিতে প্রার্থী দিয়ে ১৩টিতে বিজয়ী হয়েছিল। এবার তৃতীয় দফায় ৮১টি উপজেলার মধ্যে ফলাফল ঘোষিত ৭৮টির মধ্যে জামায়াত চেয়ারম্যান পদে আটটি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়টিতে বিজয়ী হয়েছে। কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নির্বাচনী অনিয়মের কারণে কমপক্ষে পাঁচটি উপজেলা জামায়াতের বিজয় হাতছাড়া হয়েছে। এছাড়া ১১টি উপজেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা দ্বিতীয় হয়েছে। এই দফায় জামায়াত চেয়ারম্যান পদে ২৪, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আটটিতে প্রার্থী দিয়েছিল। এর আগে প্রথম দফায় ৯৮টির মধ্যে জামায়াত  চেয়ারম্যান পদে ১৩টি, ভাইস চয়ারম্যান পদে ২৩টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০টিতে বিজয়ী হয়। এই দফায় চেয়ারম্যান পদে ৩০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৭ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৫টিতে প্রার্থী দিয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ১১৬টির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আটটি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ টিতে বিজয়ী হয়। এই দফায়  চেয়ারম্যান পদে ২৭, ভাইস  চেয়ারম্যান পদে ৫৩ ও মহিলা ভাইস  চেয়ারম্যান পদে ১৬টিতে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। জামায়াতের অনেকের মতে, নির্বাচনে  কেন্দ্র দখলসহ অনিয়ম বৃদ্ধির ঘটনা ছাড়াও প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে ১৯ দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় হবে এবং  সরকারের পক্ষ থেকে হামলা মামলা ধরপাকড় ও বাধাবিপত্তি না থাকলে জামায়াত আরও বেশি আসনে বিজয়ী হতো। এ ছাড়া কেন্দ্র দখল, জালভোট, ভোটদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, প্রশাসনের প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা জোটের কৌশলের ঘাটতির কারণেও অনেক উপজেলা ১৯ দলীয় জোটের হাতছাড়া হচ্ছে বলে মনে করছেন নেতারা। তবে বাকি ধাপগুলোতে প্রতিকূলতার মধ্যেই জামায়াত ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ব্যাপারে আশাবাদী। ঢাকা মহানগর জামায়াতের তরুণ সদস্য আতাউর রহমান সরকার বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাচনে দলের বিপুলসংখ্যক প্র্রার্থীর বিজয় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের জন্য বিরাট অর্জন হিসেবে মনে করছে জামায়াত। এই ফলাফল রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,  আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম, শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগের মতো বড় ধরনের  ইস্যু মোকাবিলা করতে হচ্ছে জামায়াতকে। তাদের দাবি, এসব বিষয় নিয়ে মিডিয়ার একতরফা প্রচারণার শিকার হচ্ছে এই দলটি। এছাড়া উচ্চ আদালতের এক রায়ে জামায়াত  নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে। তাদেরকে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না চার বছর ধরে। কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর অফিসসহ বেশির ভাগ বিভাগীয় ও জেলা অফিস অঘোষিতভাবে বন্ধ রয়েছে। ২০১২ সালে নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিসহ প্রতিপক্ষের আক্রমণে ২০৭ শিবির কর্মী প্রাণ হারিয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাবন্দি। মামলা দায়ের হয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। দলের আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল, নায়েবে আমীর, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতা কারাবন্দি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের।  এ ছাড়া সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ফাঁসি ও কারাদ-ের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির দ- দিয়েছেন আদালত। দলের বাকি নেতারাও বিভিন্ন মামলায় ফেরার আসামি। আন্ডারগ্রাউন্ড থেকেই দল পরিচালিত হচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচি ও বক্তব্য বিবৃতি দেয়া হচ্ছে তিন বছর ধরে। এই অবস্থায় দলটি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের দাবি উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ দলের বিষয়ে দেশের মানুষ অনেক কিছু পরিষ্কার করে দিয়েছে। তাদের মতে, যেভাবে জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রমাণ করার তৎপরতা চালানো হয়েছে তা জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরা টাইব্যুনালের রায়গুলোও জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। জামায়াতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি তারই প্রমাণ বহন করে। এজন্যই তৃণমূলে জামায়াতের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করছে মানুষ। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত থাকলে জামায়াতসহ ১৯ দলীয় জোট উপজেলা নির্বাচনে ৯০ ভাগ পদে বিজয়ী হতো ।

Comments
Loading...