ইবনে সিনায় জয় বাংলা স্লোগানে হামলা ভাংচুর, আহত ১১, আটক ৭

0 ২২

ibsina-1স্টাফ রিপোর্টার : টাকা ছাড়া রোগীর ছাড়পত্র না দেয়ায় রাজধানীর ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে রোগীসহ ১১ জন কম-বেশি আহত হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে ইবনে সিনার সাত কর্মকচারীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতক্ষ্যদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ম-ল তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লিয়া ম-লকে গত ১৭ নবেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করেন। একদিন পর সিজারের মাধ্যমে তার সন্তান প্রসবের পর রোগী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অভিভাবককে রোগী নিতে অনুরোধ করতে থাকে। কিন্তু বিশ্বজিৎ ম-ল জানান, যত বিল হয় হোক আমি পরিশোধ করবো। মাত্র ১ হাজার টাকা ভর্তি ফি দিয়ে এ রোগীকে ভর্তি করা হয়। তিন হাজার তিনশ’ টাকার কেবিনে ভর্তি হওয়ায় এ রোগীর সর্বমোট খরচ দাঁড়ায় ৯৪ হাজার ৯৩২ টাকা। অথচ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে গতকাল বুধবার ২টার দিকে রোগী নিতে চায় বিশ্বজিৎ ম-ল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সব খরচ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ডাক্তার খরচ এবং ওষুধ বিল বাবদ ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে রোগী নিতে বললেও রাজি হননি তিনি। রোগী নিয়ে যাচ্ছি টাকা দিতে হয় পরে দেব সাফ জানান বিশ্বজিৎ ম-ল। ঝামেলা সৃষ্টি করার মানসেই এর আগে থেকেই স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই তৈরি করে হাসপাতালে এনে জড়ো করে রাখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বিতর্কের এক পর্যায়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ জড়ো হতে থাকে। তারা হাসপাতালে ব্যাপক হামলা চালায় এবং ভাংচুর করে। তাদের হামলায়  আহত হয় রোগীসহ ১১ জন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আনিসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। আমরা ৯৪ হাজারের পরিবর্তে মাত্র ১৮ হাজার টাকা দিয়ে রোগী নিয়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি টাকা না দিয়ে কিছু লোকজন দিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এতে আমাদের আনুমানিক কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশও বিনা কারণে আমাদের সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে। হাসপাতালের একজন রোগীসহ পাঁচজন আহত হয়েছে।

ধানমন্ডি জোনের এসি রেজাউল ইসলাম বলেন, গত ১৭ নবেম্বর বিশ্বজিৎ ম-ল নামের এক ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লিয়া আক্তার ধানমন্ডিস্থ-১৫ এর ইবনে সিনা হাসপাতালে জরুরি প্রসবের জন্য ভর্তি করান। লিয়া সুস্থ হবার পর স্বামী তাকে বাসায় নিতে প্রস্তুতি নিয়ে হাসপাতালের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই মওকুফ চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মানেনি। এ ঘটনার সূত্র ধরে রোগীপক্ষ ও হাসপাতালের স্টাফদের সাথে সংঘর্ষ বাধে।

Comments
Loading...