এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

0 ১৫

ATM AJAHARজামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে এক সাক্ষির ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
আজহারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আব্দুস সোবহান তরফদার এবং অপরদিকে প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম মামলা পরিচালনা করেন।

এর আগে আজহারের বিরুদ্ধে গত ১২ নভেম্বর ৬টি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) রয়েছে। অপরাধের মধ্যে রয়েছে গনহত্যা, হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষন, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, শুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগ।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ হলোঃ

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাসানী (ন্যাপ) নেতা ও রংপুর শহরের বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী এ ওয়াই মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণ, আটক শারিরীক নির্যাতন। এরপর তাদের ৩ এপ্রিল রংপুর শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে গণহত্যা।

দ্বিতীয় অভিযোগে : ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল আজহার তার নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপাড়ায় ১৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

তৃতীয় অভিযোগে: একই বছরের ১৭ এপ্রিল তার নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ারবিল এলাকায় এক হাজার ২’শ ২৫জন নিরীহ লোক ধরে নিয়ে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ: একই বছরের ১৭ এপ্রিল রংপুর কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপক পত্মীকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে অপহরণ করে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা।

পঞ্চম অভিযোগ: ৭১’এর ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মহিলাদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরীক নির্যাতন। একই সঙ্গে মহিলাসহ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম, হত্যা ও গণহত্যা।

ষষ্ঠ অভিযোগ: ৭১’এর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায় একজনকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি থেকে এজনকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে নিয়ে আটক রেখে অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন ও গুরুতর জখমের ঘটনা। আসামী আজহার এসব ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে তদন্তকালে ৬০ জনেরও বেশী ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ মামলাটি তদন্ত করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা (আইও) এসএম ইদ্রিস আলী। মামলায় সুনির্দিষ্ট ২৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তের স্বার্থে গত ১১ ফেব্র“য়ারি আজহারকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে রাজধানীর মগবাজারস্থ নিজ বাসা থেকে গত বছরের ২২ আগস্ট আজহারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Comments
Loading...