এ কেমন নির্মম নৃশংশতা

0 ১২

প্রতিবন্ধীকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে-পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা!
চোর সন্দেহে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় প্রতিবন্ধী কবীর হোসেনকে (৪৫) পিটিয়ে ও পুরুষাঙ্গ কেটে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাগুরা সদর উপজেলার সাইত্রিশ এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কবীর হোসেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আডুয়াকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ওরফে চুন্ন মোল্লার ছেলে।
মাগুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, সকালে সাইত্রিশ নামক স্থানে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিহতের বড় ভাই সিরাজ হোসেন বলেন, আমার ভাই অনেকদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে আমরা পাবনা থেকে চিকিৎসা করিয়েছি। এর পর থেকে মাঝে মধ্যে ভালো থাকতো।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে ঘরের তালা ভেঙে পালিয়ে যায় সে। রাতে মাগুরা সদর উপজেলার খালিমপুর গ্রামে গেলে ওই গ্রামের লুৎফর রহমান, মুক্তার হোসেন, রেজাউল ইসলাম ও বাদশা হোসেন চোর অপবাদ দিয়ে তাকে নৃসংশভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

পোড়াহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরন বলেন, ‘কবীর আমার প্রতিবেশী। সে র্দীঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। মাঝে মধ্যে সে হারিয়ে যেত।
তিনি জানান, ভোররাতে কবীর হোসেন খালিমপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের বাড়িতে গেলে চোর সন্দেহ করে তাকে পিটিয়ে পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করে গাছের সঙ্গে বসিয়ে রাখা হয়।

পোড়াহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, একজন প্রতিবন্ধীকে এভাবে হত্যা করা সব নিষ্ঠুরতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার আশা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী কবীর হোসেন দীর্ঘ ১৮ বছর মানসিক রোগে ভুগছেন। এজন্য সম্প্রতি তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।

তার বৃদ্ধা মা সালেহা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার পাগল ছেলেকে যারা মেরে ফেলল, আমি তাদের বিচার চাই।’
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহতের মেজ ভাই হবিবর রহমান।

Comments
Loading...