ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয় না

0

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবনী পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। শুক্রবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি জানিয়ে বলেন, জাতীয় জীবনে জেনারেল ওসমানীকে আরও মূল্যায়ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবীর ওসমানীর ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান সুলতান মনসুর।

তিনি তার পোস্টে বলেন, কষ্ট হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দাবিদাররা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তার মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয় না। এই প্রজন্মের জানা উচিত বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। একই বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পুণ্যভূমির পুণ্যসন্তান হিসেবে জাতীয় সংসদে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুর পর মুজিবনগরে গঠিত স্বাধীন বাংলা সরকারের সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন তিনি।

তার সুশৃঙ্খল নেতৃত্বে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে শত্রুসেনাদের পযুর্দস্ত করে বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল। এমনকি একজন জাত সৈনিক ও সুদক্ষ সেনানায়ক হিসেবে তিনি পাকিস্তান আমলে বাঙালি সৈনিকদের জন্য পদসংরক্ষণ, পাকিস্তান ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের জন্য রণসংগীত হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগনে বাজে মাদল’ গানটি সরকারি অনুমোদন আদায়ের মাধ্যমে স্বদেশ-স্বজাতির প্রতি তার ভালোবাসার নজির রেখে যান। বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছে তার বিরাট অবদান। ১৯৭৮ সালে গণঐক্য জোটের প্রার্থী হিসেবে জেনারেল ওসমানী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ সেদিন মাঠে নামার সাহস পেয়েছিল। তাই জাতীয় এই বীরের জীবনী আমাদের পাঠ্যবইগুলোয় অন্তর্ভুক্তিকরণসহ জাতীয় জীবনে তাকে আরও মূল্যায়ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

Comments
Loading...