‘কাদেরেরই অবসর নেওয়ার সময় এসেছে’

0

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবেরই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সময় চলে এসেছে। কারণ তার কথাবার্তার মধ্যে অসংলগ্নতা দেখা যাচ্ছে।’
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলছেন জেলখানা আরাম আয়েশের জায়গা নয়, আবার পরক্ষণেই বলেছেন কারাগার শান্তিতে স্বস্তিতে থাকার জায়গা। সেখানে তিনি (খালেদা জিয়া) বিশ্রাম নেবেন। ওবায়দুল কাদের সাহেব যেন আইন আদালত নিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছেন। পরস্পরবিরোধী কথা বলাতে আওয়ামী নেতাদের জুড়ি মেলা ভার।’

রিজভী বলেন, ‘তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিশ্রামের জন্য তাঁকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, প্রহসনের বিচার কার্য চালিয়ে অন্যায় সাজা দিয়ে জেলে আটকিয়ে রেখেছেন কেন? এ ধরনের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকেরই বিশ্রাম নেয়ার সময় চলে এসেছে।’

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘কাদের সাহেব আপনারা গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি ও নির্বাচন উভয়ই দিতে ব্যর্থ। সমালোচনা গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত শক্তি। যেদেশে বিরোধী দল সরকারকে উদ্দেশ্য করে কিছু বললেই জেল-জুলুম সহ্য করতে হয় সেদেশে কী তন্ত্র চালু আছে সেটি জনগণ আপনার কাছ থেকে জানতে চায়। কেউ সমালোচনা করে ফেসবুকে কিছু লিখলেই তাঁকে জুজুর ভয় দেখিয়ে আটক করা হয় সেটা কী জীবিত গণতন্ত্র নাকি গণতন্ত্রের মৃতদেহ?’

রিজভী বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ভয়েই দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয়েছে।’

রিজভী আরো বলেন, ‘রাজনীতিকে ভন্ডামিতে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ।’ বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও সরকার বাধার সৃষ্টি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গত এক সপ্তাহে প্রায় পাঁচ হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও বিএনপি অংশ নিবে: কাদের
‘খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার দুপুরে নিজ জেলা ফেনী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।এসময় তিনি বলেন, বিএনপি বলেছে খালেদা জিয়াকে ছাড়াও তারা শক্তিশালী। সেই শক্তিশালী বিএনপিকে নিয়েই তারা নির্বাচন করবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে এটা নিশ্চিত। খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না এটা আদালতের এখতিয়ার। আইনি জটিলতার কারণে খালেদা জিয়া অংশ নিতে না পারলেও বিএনপি মাঠে আছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, রায়ের পর ১০ দিন হতে চললেও এখনো আদালত সত্যায়িত কপি আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করেনি। আপিল বিলম্ব করে খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করার জন্যই তা করা হচ্ছে।

জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে যুক্তিসংগত সময় লাগবে। এ নিয়ে অহেতুক ধুম্রজাল সৃষ্টির প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়ে তারা তা পাবেন বলেই আমার বিশ্বাস।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ভেবেছিল খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় হওয়া এবং গ্রেপ্তারের পর রাজপথে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, বঙ্গোপসাগরে ঢেউ নামবে। কিন্তু তা হয়নি। এ বিষয়ে মানুষের সাড়া মেলেনি। বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ইতিহাস নেই।’

‘হাইকোর্টের সামনে প্রিজন ভ্যানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ কমসূচি পালনে বিএনপির সক্ষমতা নেই। খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি কমসূচি দিয়েছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে গৃহপরিচারিকাকে কারগারে থাকার অনুমতি দিয়েছেন আদালত; এটা নজিরবিহীন ঘটনা।’

Comments
Loading...