গণলড়াইয়ের মাধ্যমে মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করা হবে : আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেফতারের ৫০০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক প্রতিবাদ সভা

0 ১৭

Amardesh-11বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাবন্দি করা, আমার দেশ বন্ধ করা ও সম্প্রচার নীতিমালা একই সূত্রে গাঁথা। অবৈধ সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এসব অপকর্ম করছে। বর্তমান সরকার বাকশালের নতুন সংস্করণ। সরকার নিজের অবস্থা বুঝতে পেরে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। গণলড়াই গড়ে তুলে জনগণকে মুক্ত করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গণআন্দোলনেই মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করা হবে। 
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ‘আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেফতারের ৫০০ দিন’ উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, প্রকৌশলী নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার। আমার দেশ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সূচনা বক্তব্য দেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ। 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জিয়া পরিবারকে জড়িয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাচ্ছে সরকার। বিএনপি নেতাদের রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এই ঘটনায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও তত্কালীন জোট সরকারের মন্ত্রীরা জড়িত বলে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব অরাজনৈতিক ও হীন বক্তব্যের নিন্দা জানাই। ২১ আগস্টের বোমা হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। 

সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে দাবি করে ফখরুল বলেন, জনগণের কাছে তাদের জায়গা নেই। তাই এখন ক্ষমতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে ওঠেছে। সে কারণে তারা অতীতের ভুলগুলো আবার করছে। এই আশায় যে, তারা আবারো সফল হবেন। আঁঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের চামড়া দিয়ে যারা ডুগডুগি বানানোর কথা বলেছিলেন, তার লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন তাদেরকেও সঙ্গে নিয়েছেন। দেশের মানুষ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায় বলেও দাবি করেন ফখরুল।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি দেয়ালের লিখন বুঝতে পারছেন না। আপনারা কি মনে করছেন নিরাপত্তা কর্মী বেষ্টিত হয়ে চতুর্দিকে বিভিন্ন রঙের কাপড় পরা সৈনিক নিয়ে ঘিরে থেকে বেঁচে যাবেন? ইতিহাস তো তা বলে না। এমনকি পাতালে গিয়েও তো কেউ রক্ষা পায়নি। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতো কথা বলছেন নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটা নির্বাচন দিন না। তা দেবেন না, কারণ সেই নির্বাচনে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, জনগণ ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এ জালেম সরকারকে রুখে দিতে হবে। আমাদের কথা কমিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে হবে।
মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ সরকারের কাছে মুক্তি চেয়ে কোনো লাভ নেই। আন্দোলনের মাধ্যমে এদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করে মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করা হবে।

ফরহাদ মজহার সমপ্রচার নীতিমালার সমালোচনা করে বলেন, যেসব সাংবাদিক এই নীতিমালা করেছেন তারাই আবার টিভিতে গিয়ে বলেন এটা আমরা করিনি। আমাদের সব পরামর্শ নেয়া হয়নি। এরা আসলে সাংবাদিক নয়, সন্ত্রাসী। তিনি সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য বিএনপিকে শক্তিশালী করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের জন্য বিএনপি কী কী করবে তাও স্পষ্ট করার পরামর্শ দেন ফরহাদ মজহার।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, ঘোষিত সমপ্রচার নীতিমালা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। আমরা এ নীতিমালা বন্ধের দাবিতে লড়াই করছি। সারাদেশে আন্দোলন চলবে। 

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে কঠোর কর্মসূচি না দেয়ার সমালোচনা করেন বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ। সমপ্রচার নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে সুযোগমত আন্দোলন করলে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি মিলবে না। জীবন উত্সর্গের অঙ্গীকার নিয়ে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তাহলেই কেবল জনমুক্তি মিলবে। মাহমুদুর রহমানও মুক্তি পাবেন। 

অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম বলেন, বাতাসে বিজয়ের সুবাতাস পাওয়া যাচ্ছে। সরকার আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। অচিরেই তাদের পতন হবে। এজন্য জনগণকে রাজপথে নামতে হবে। 

সূচনা বক্তব্যে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, দৈনিক আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের ৫০০ দিন হয়ে গেছে। সরকার আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসে তালা ঝুলিয়ে পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। পত্রিকা খোলার জন্য হাইকোর্টে রিট করা হলেও দেড় বছরেও রিটের শুনানি হয়নি। আমার দেশ-এর ৭শ সাংবাদিক-কর্মচারী তিনটি বেঞ্চে এই রিট নিয়ে গেছেন। কিন্তু বিচার পাওয়া দূরের কথা, রিটের শুনানির ব্যবস্থাটুকুও হয়নি। বিনা বিচারে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জেলে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে গেছে। ওজন কমে গেছে। মেরুদণ্ডের ব্যথা বেড়ে গেছে, ফ্রোজেন সোল্ডারের কারণে ডান হাত অবশ হওয়ার উপক্রম। সরকারের কাছে এবং হাইকোর্টে রিট করেও চিকিত্সার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আমার দেশ-এর সাংবাদিক-কর্মচারীরা আজ দুঃখকষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

Comments
Loading...