না’গঞ্জে সাত খুন; মেজর আরিফের গাড়িচালকের জবানবন্দী

0 ১৮
car_driverনারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত র‌্যাব-১১ এর সাবেক উপ-অধিনায়ক অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর মেজর আরিফ হোসেনের গাড়িচালক নায়েক দেলোয়ার হোসেন।
গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে এ জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। এতে তিনি সাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনকে অপহরণ ও পরে হত্যার যেসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন ও অবগত আছেন সেসব তথ্য আদালতে জানিয়েছেন।
সাত খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল জবানবন্দীর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, সাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুরো বিষয়টি সরাসরি তদারকি করেন মেজর (অবসরে পাঠানো) আরিফ হোসেন। তিনি ছিলেন র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক। সাতজনকে অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যার পুরো পরিকল্পনায় আরিফ যেমন ছিলেন তেমনি তিনি নিজেও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। আরিফ কোথাও অভিযানে গেলে ওই গাড়ি চালাত নায়েক দেলোয়ার হোসেন। তিনি আদালতে অপহরণ থেকে শুরু করে সাতজনকে অজ্ঞান করে গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে নেয়া, সাতজনকে হত্যার পর কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে উঠানোর পর প্রত্যেকের লাশের সাথে রশি দিয়ে বস্তাবন্দী ইট বাঁধা এবং মদনগঞ্জের চরধলেশ্বরী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়ে ফেলে দেয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সাথে র‌্যাব-১১ এর দায়িত্বরতরাই জড়িত ছিল। তারা শুধু আদেশ পালন করেছেন।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত র‌্যাব-১১ এর ৯ জন বিভিন্ন স্তরের সদস্য আদালতে সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করল। ১৮ আগস্ট নরসিংদী ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর সুরুজ ও শহরের পুরাতন কোর্টের র‌্যাব-১১ এর ক্রাইম প্রিভেনশনাল স্পেশাল কোম্পানির এস আই পলাশ গোলদার জবানবন্দী প্রদান করে। এর আগে গত ১০ আগস্ট এএসপি শাহরিয়ার ও নায়েক নাজিম, ৪ আগস্ট নায়েক আবদুর রাজ্জাক ও সিপাহী আলী আজম এবং ২২ জুলাই আবদুস সালাম ও আবদুল সামাদ আদালতে সাক্ষী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। তারা সবাই সাতজনকে অপহরণ ও কিলিং মিশনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম মহিউদ্দিনের আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন আরিফ হোসেন।
Comments
Loading...