নূর হোসেন কলকাতায় ৮ দিনের রিমান্ডে

0 ১৯

downloadঢাকা: কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সেখানকার আদালত। একই সঙ্গে তার দুই সহযোগীরও আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা আদালতের সেকেন্ড চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এডউইন লেপচা এ আদেশ দিয়েছেন। বাগুইয়াটি থানার পুলিশের দায়ের করা অনুপ্রবেশ, অস্ত্র আইন ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগের মামলায় তাদেরকে রিমান্ডে নেয়া হয়।এর আগে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে বাগুইয়াটি থানা থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। তিনজনকেই আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

ইন্টারপোল পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে তিনজনের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তবে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীর পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়নি।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলকাতার দমদমের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ভারতীয় অ্যান্টি টেরোরিস্ট বাহিনী।
নূর হোসেন বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা- ইন্টারপোলের সাহায্য নেয়া হয়। পরে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে ইন্টারপোল।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম একসঙ্গে অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। মামলায় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়।

গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তায় বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়। গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় আরো বেশ কয়েকজনকে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। নজরুল ইসলামের শ্বশুর অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
গত ১০ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

Comments
Loading...