পার্থ তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করত !

0 ১৬

ঝালকাঠির রাজাপুরের এক কিশোরী গৃহকর্মী গত রবিবার হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করেছে। তার পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় যে বাসায় সে গৃহকর্মীর কাজ করত, সেই গৃহকর্তা ধর্ষণ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ খবর জানতে পেরে গৃহকর্ত্রীও তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। সর্বশেষ ওই গৃহকর্মীকে লোকজন দিয়ে গ্রামের বাড়ির পাশে রাস্তায় ফেলে রেখে গেলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। গত রবিবার সে হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করে।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর মায়ের অভিযোগ, ২০০৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর অভাবের তাড়নায় প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জুলফিকার রাঢ়ীর মেয়ের ঢাকার ইব্রাহিমপুরে ভাড়া image_32983_0বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন ৯ বছরের মেয়েকে। তিন-চার বছর পর থেকে গৃহকর্তা ঠিকাদার রওশন জামাল পার্থ তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করত। এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিত। দেড় বছর ধরে এভাবে তার ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। একপর্যায়ে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

ওই গৃহকর্মীর মা জানান, ঘটনাটি সে পার্থর স্ত্রী মুনি্ন বেগমকে জানালে মুনি্নও তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দিত। কিছুদিন আগে তাকে কানিজ নামের তাদেরই এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে পরে নিখোঁজ বলে থানায় ডায়েরি করে। সেখান থেকে কৌশলে সে পালিয়ে আসে পার্থর বাসায়। কারণ সে ওই বাসা ছাড়া আর কোথাও কাউকে চিনত না, এমনকি গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথও সে চিনত না। এ সময় পার্থর স্ত্রী মুনি্ন বেগম অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মেয়ের মাথার চুল কেটে দেয়। তাকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দেয়। পরে পার্থ ও তার সহযোগীরা মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে তাকে ঝালকাঠির রাজাপুরে নিয়ে আসে। গত ৪ এপ্রিল রাতে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে ৬ এপ্রিল সে মৃত সন্তান প্রসব করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার বিকেলে তাকে রাজাপুর থেকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের রাসেল বলেন, কিশোরীর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানোর কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সে একটি মৃত সন্তান প্রসব করেছে, কিন্তু সন্তানটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর সঠিক বয়স বলা সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহকর্মী বলে, বাবা মারা যাওয়ার পর তাকে গৃহকর্মীর কাজে দেওয়া হয়। ঢাকায় আসার কিছুদিন পর থেকে তাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। গরম খুন্তি ও লাইটার দিয়ে অনেকবার ছ্যাঁকা দিয়েছে। মা কষ্ট পাবে ভেবে বিষয়টি সে কখনো তাঁকে জানায়নি। কাজ না করলে তাকে না খেয়ে থাকতে হবে, তাই সে সবই মুখ বুজে সহ্য করেছে। পার্থ তাকে জোর করে অসংখ্যবার নির্যাতন করেছে। এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিত। এ অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানো হয়।

তবে ঠিকাদার রওশন জামাল পার্থ দাবি করে, “আমরা কখনোই ওই কিশোরীকে নির্যাতন করিনি। সে গত ১৯ আগস্ট আমাদের বাসা থেকে অন্য স্থানে চলে যায়। পরে ওই দিনই কাফরুল থানায় একটি ডায়েরি করি। পরে গত ২০ মার্চ সে আবার আমাদের বাসায় আসে। এ সময় তার গতিবিধি সন্দেহ হলে পরদিন তাকে রাজাপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার মায়ের হাতে তুলে দিই। পরে আমি ঢাকায় ফেরার পর রাজাপুরের ইসলাম ও জাহিদ নামের দুই ব্যক্তি ওই মেয়েকে দিয়ে আমাকে ফোন করায়। এ সময় সে আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে ওই দুই ব্যক্তি তার সামনে থেকে চলে গেলে সে আমাকে ফোন করে বলে, ‘খালু, দুই হাজার টাকা পাঠান। আমি হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও চলে যাই। না হলে ওরা আমাকে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে চাপ দিচ্ছে।’ ষড়যন্ত্রকারীরা এখন উল্টো আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

Comments
Loading...