বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটালের ছোঁয়া

0 ১৪

22625_1দেশে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে নিম্ন আদালতের মামলার তথ্য সংবলিত অনলাইন কজলিস্ট। সুপ্রিম কোর্টের পর প্রাথমিকভাবে ঢাকা,কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি আদালতের মামলার তথ্য নিয়ে কজলিস্ট সংবলিত ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে বিচার ব্যবস্থায়ও বর্তমান সরকারের ঘোষিত ডিজিটালের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে।

জেলা পর্যায়ের আদালতসমূহের জন্য www.bdcourts.gov.bdনামে ওয়েবসাইটটি সুপ্রিম কোর্টের সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় তৈরি করা হয়েছে এ ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটে ঢাকা জেলার- ঢাকা জেলা জজ আদালত,ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত,ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,পরিবেশ আদালত,বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল নং-১সহ ঢাকার সকল তথ্য পাওয়া যাবে।

অপরদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালত,কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,রাঙ্গামাটি জেলা জজ আদালত,রাঙ্গামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দৈনন্দিন মামলার কার্যতালিকা ও তথ্য পাওয়া যাবে।

আদালতে প্রতিদিন কোন কোন মামলার শুনানি হবে,মামলাটি (শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ,রায়) কি জন্য কার্যতালিকায় আছে তাও জানা যাবে ওয়েবসাইটে।

পাইলট জেলা হিসেবে ঢাকা,কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি জেলায় প্রাথমিকভাবে বিচারিক কার্যক্রমে দ্রুতগতি আনতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় বিচার বিভাগের সকল তথ্য পৌঁছে দিতে ইউএনডিপির সহায়তায় এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে সূত্র থেকে জানা গেছে।

মামলার কজলিস্টসহ বিচারিক অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বর্তমানে রাজশাহী, রংপুর ও কুমিল্লা জেলায় কাজ চলছে বলে জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট’র) দাফতরিক সূত্র জানিয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল জেলা আদালতের কজলিস্ট চালুসহ বিচারিক কার্যক্রম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) জাতীয় প্রকল্প পরিচালক জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান জানিয়েছেন, সাধারণত কোনো মামলার তথ্য জানতে একজন মানুষকে আদালতে আসতে হয়,আইনজীবীর কাছে টাকা দিতে হয়। কিন্তু এখন থেকে ভুক্তভোগী মানুষকে আর এ সব কাজ করতে হবে না। ঘরে বসেই বিনাখরচে মামলার যাবতীয় তথ্যাদি পাবে www.bdcourts.gov.bd এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

তিনি আরও জানান,মামলার প্রতিটি আদেশ এবং রায় ওয়েবসাইটে সন্নিবেশিত থাকবে। যার প্রেক্ষিতে খুব সহজেই কোনো ব্যক্তি তার মামলার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে।

‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সকল জেলাকে এ সেবার আওতায় আনা হবে’বলেও জানান তিনি।

কুদ্দুস জামান জানান,মামলার প্রতিটি তথ্য আপডেট রাখতে আদালতের সকল বেঞ্চ অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আদালতসমূহে কম্পিউটার,ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে মানুষের সুবিধার্থে।

এ সম্পর্কে জাস্ট প্রকল্পের আইসিটি ম্যানেজার মো. রেজাউল আল মাসুম বলেন, প্রায় ১ লাখ মিলিয়ন ডলার খরচ করে নিম্ন আদালতের কজলিস্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন,মূলত ২০১১ সাল থেকে নিম্ন আদালতে কজলিস্ট চালুর উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু হয়। প্রথমে ঢাকা জেলা আদালতে কাজ শুরু হয়। এর পর তা প্রাথমিকভাবে শেষ করে চালুও করা হয়। কিন্তু নিয়মিতভাবে আপডেট করা হত না। পরবর্তী সময়ে ইউএনডিপির প্রকল্পের আওতায় নতুন করে উন্নত ব্যবস্থাপনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি জেলার আদালতসমূহ এ আওতার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মাসুম বলেন,কজলিস্ট আপডেট রাখা ও তথ্য ইনপুটের বিষয়টি আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার বা কর্মকর্তারাই করে থাকেন। এজন্য তাদের নিয়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সেমিনার করানো হচ্ছে নিয়মিতভাবে।

জাস্ট সূত্র জানায়, বাদী-বিবাদীর মধ্যস্থতা ও বিচারকের পরামর্শের ভিত্তিতে কমছে মামলাজট। সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে জুডিশিয়াল স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় বিশেষ এ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতসহ বেশ কয়েকটি জেলা আদালতে।

একই সঙ্গে অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা না পাওয়ায় করা মামলাগুলোও পরামর্শের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হচ্ছে দ্রুততর সময়ে।

সুপ্রিম কোর্টসহ ঢাকা,কিশোরগঞ্জ এবং রাঙ্গামাটি জেলাকে পাইলট জেলা হিসেবে বিবেচনা করে মামলা নিষ্পত্তিসহ বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাস্ট প্রকল্প।

আইনজ্ঞরা বলছেন,দেশের সব জেলায় মধ্যস্থতা ও পরামর্শের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির পদ্ধতি চালু করতে পারলে দ্রুততম সময়ে মামলাজট কমবে। এ পদ্ধতিতে কম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় দ্রুত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। যুগ যুগ ধরে রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

Comments
Loading...