‘বড় ভাই’র নেতৃত্বে কিলিং মিশনে যাচ্ছিল ওরা

0

তিনটি মোটরসাইকেলে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম এলাকায় কিলিং মিশনে যাচ্ছিল ওরা ১০ জন। পথে পুলিশ চেকপোস্ট দেখে তারা ভড়কে যায়। গ্রেফতার এড়াতে তাই চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসী খোকন। মিশনের নেতৃত্বে ছিল ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী বড় ভাই। তার পরিচয় ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাকে এখনও গ্রেফতার করা না গেলেও শুক্রবারের ওই ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি পুলিশকে গুলি করা সেই অস্ত্র। গ্রেফতার তিনজনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এদিকে গুলিতে আহত পুলিশের এএসআই আবদুল মালেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কিলিং মিশনের নেতৃত্বে থাকা বড় ভাইয়ের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে ওই দশজনের আশ্রয়দাতা শুলকবহর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সোলাইমান বাদশা বলে জানা গেছে। তিনি নগরের ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মোহাম্মদ ওয়াসিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সমকালকে বলেন, কিলিং মিশনের মতো বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটনে তারা যাচ্ছিল। পথে চেকপোস্টে পুলিশ গাড়ি থামানোর সিগন্যাল দিলে গ্রেফতার এড়াতে তারা গুলি করে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

জানা যায়, বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরীর অনুসারীরা নগরের ২ নম্বর গেট আল ফালাহ গলিকেন্দ্রিক কথিত ছাত্রলীগ নামধারী এক সন্ত্রাসীকে মারধর করে। এর প্রতিশোধ নিতে ওই নেতার নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে আল ফালাহ গলি থেকে বের হয়ে ২ নম্বর গেট হয়ে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিল ১০ জন। ২ নম্বর গেট থেকে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার পথেই প্রথম মোটরসাইকেলটি থামাতে সিগন্যাল দেয় পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে পেছনের মোটরসাইকেলে থাকা খোকন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে ধাওয়া দিলে দুটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে রেখে অন্য মোটরসাইকেলটির আরোহীরাসহ নয়জন পালিয়ে যায়। একটি গ্রুপ শপিং কমপ্লেক্সের পাশের গলি দিয়ে দিকে ঢুকে পড়ে। অন্য গ্রুপটি ২ নম্বর গেটের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা ও একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ধাওয়া দিয়ে পুলিশ হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকার অটোরিকশা চালক মো. ইউনুছের ছেলে আবদুল হাকিম অভিকে আটক করে। বখাটে অভি থাকে ২ নম্বর গেট মেয়র গলির সালাউদ্দিনের ভাড়া বাসায়।

শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে মুরাদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আনোয়ারা উপজেলার রায়পুরা দোভাষীরহাট এলাকার মাঈনুদ্দিন ফরিদ রাকিব ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন প্রত্যয়কে। রাকিবের বাবা সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার আ ন ম ফরিদ উদ্দিন ফরহাদ। নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে রাকিব। তারা থাকে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৫ নম্বর সড়কের আল মদিনা ভবনের চতুর্থ তলায়। প্রত্যয়ের বাবা দেলোয়ার হোসেন পেশায় ব্যবসায়ী। তারা থাকে মুরাদপুর জলিল বিল্ডিং গলির হাজেরা আলী টাওয়ারে। কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রত্যয়। শুক্রবার পরীক্ষা না থাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে তারাও কিলিং মিশনে অংশ নেয়।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, রাতে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে থাকা দু’জনকে গ্রেফতার করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বহরে থাকা অন্য মোটরসাইকেলটি রাতে মুরাদপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল হক ভূঁঈয়া জানান, এএসআই আবদুল মালেকের ডান হাঁটুতে গুলি লেগেছে। গতকাল মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। আজ রোববার তার পায়ে অপারেশন হবে।

Comments
Loading...