ভাষা সৈনিক না যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচার ‘শুরু থেকে শেষ’

0

গোলাম-আযম-সিসিইউতে-300x200অধ্যাপক গোলাম আযম একজন আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি। নানা কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। সর্বশেষ তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় নিয়ে মৃত্যুবরণ করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। জামায়াত থেকে অবসরে যাওয়ার পর ২০১২ সালে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার হয়ে ফের আলোচনায় আসেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে  ট্রাইব্যুনাল-১ গোলাম আযমের পক্ষে করা জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। আদেশে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনের কোনো বিধান নেই।

ওই দিন ট্রাইব্যুনাল তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। এর তিন ঘণ্টা পর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে মেডিকেল চেক-আপে পাঠানো হয় ।

১৫ জানুয়ারি একটি মেডিকেল টিম দ্বারা আযম বিচারের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি হাসপাতালের কারাগার কক্ষে থাকার অনুমতি পান ।

কারারুদ্ধ করার পর থেকে আযমের স্বাস্থ্য অতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। তার স্ত্রী সয়ৈদা আফিফা আযম কয়েকটি সংবাদপত্রে তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে পরিবারের লোকদের সাক্ষাত ও বই সরবরাহ করার অনুমতি দেয়া হয় না। এটাকে তিনি একধরনের মানসিক নির্যাতন বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ইসলামিক কর্মীরা গোলাম আযকে গ্রেফতারের ঘটনা অমানবিক বলে উল্লেখ করেন ও এ ব্যাপারে মন্তব্য করেন।

গোলাম আযমের এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে অন্তজার্তিক কয়েকটি সংস্থা সমালোচনাও করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে, জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের মামলায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে রায়ে উল্লেখ করা হয় তিনি যে অপরাধ করেছেন তাতে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। কিন্তু তার বয়স বিবেচনায় তাকে ৯০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের ৬১টি অভিযোগ আনা হয়। যার সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ৬১টি অভিযোগের মধ্যে- মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মোট ছয়টি, পরিকল্পনার অভিযোগ তিনটি,  উস্কানি দেয়ার অভিযোগ ২৮টি, সম্পৃক্ততার অভিযোগ ২৩টি এবং হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে একটি।

প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ১০ বছর করে ২০ বছর, তৃতীয় অভিযোগে ২০ বছর, চতুর্থ অভিযোগে ২০ বছর, পঞ্চম অভিযোগে ৩০ বছর কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তবে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলাকালীন সময়ে গোলাম আযমের আইনজীবীরা বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার জামিনের আবেদন করলেও ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে দেন।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ আগস্ট আসামিপক্ষ আপিল আবেদন করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ আগস্ট আপিল দায়ের  করে।

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন দেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করায় তার মামলার আপিল শুনানি অপেক্ষমাণই থেকে গেল।

গোলাম আযম ১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গোলাম কবির ও মায়ের নাম সৈয়দা আশরাফুন্নিসা। পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এর পরে তিনি ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন সময়ে তার আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম।

Comments
Loading...