ভয়ঙ্কর ১০ পলাতক অপরাধী

0 ১৬

cromeঅপরাধ ডেস্ক : বড় মাপের কুখ্যাত অপরাধী তালিকা তৈরি করে এফবিআই। ১৯৫০ সালে শীর্ষ ১০ পলাতক অপরাধীর তালিকা প্রকাশ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০১ জন পলাতক অপরাধী এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় উঠে এসেছে খুব বিপজ্জনক ও বড় মাপের কুখ্যাত অপরাধীর নাম। আর এ তালিকার ৪৭১ জনকেই ধরতে সক্ষম হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যার সাফল্যের হার ৯০ ভাগেরও বেশি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
বর্তমানে এ তালিকায় যে ১০ জন আছে, তাদের মধ্যে একজন এ তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। তবে এ তালিকার সবাই খুবই বিপজ্জনক অপরাধী। ১৯৫০ সালে এক সাংবাদিক মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলে তারা এ শীর্ষ ১০ পলাতক অপরাধীর তালিকা প্রকাশ শুরু করে। এ ধারা পরবর্তীতে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

এফবিআই তালিকায় থাকা সেই ভয়ঙ্কর ১০ পলাতক অপরাধীকে চিনে রাখুন

১. জ্যাসন ডেরেক ব্রাউন
২০০৪ সালে ৩৫ বছর বয়সি ব্রাউন আরমর্ড গাড়ির গার্ড রবার্ট কেইথকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারাইজোনা মুভি থিয়েটারের বাইরের এ ঘটনায় তিনি ৫৬ হাজার ডলার নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি ধর্মপ্রাণ খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং সেভাবেই জীবন পার করতে চেয়েছিলেন বলে পরিবারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লিখেছিলেন।

১৯৯৪ সালে গুজব রটে যে তার বাবা একজন অপরাধী ছিলেন যিনি সে বছর নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর তার আচরণ পাল্টে যায়। তিনি নারী ও দামি গাড়ির নেশায় আচ্ছন্ন হন। সে সময়েই তিনি এ অপরাধ করেন বলে জানা যায়।

২. উইলিয়াম ব্র্যাডফোর্ড বিশপ জুনিয়র
বিশপ এ তালিকার সাম্প্রতিক সংযোজন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ১৯৭৬ সালে তার পরিবারের পাঁচ জনকে হত্যা করেন। প্রমোশন নিতে ব্যর্থ হওয়ার পরেই এ ঘটনা ঘটান তিনি। তার বয়স এখন ৭৭ বছর।
তিনি তার মা, স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হত্যা করেন, যাদের বয়স ছিল পাঁচ, ১০ ও ১৪। পুলিশ জানিয়েছে তাদের হত্যা করার পর তিনি লাশগুলো এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যান। এরপর সেখানে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর আগুন লাগিয়ে দেন তিনি। এরপর তিনি তার গাড়ি ত্যাগ করে উধাও হয়ে যান।

বিখ্যাত ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা এ ব্যক্তি পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারেন। ১৯৯৪ সালে তাকে ইউরোপে দেখা যায় বলে জানা গেছে।

৩. উইলিয়াম রবার্ট ফিশার
বিশপের পর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী অন্যতম খুনি এ ব্যক্তি উইলিয়াম। অভিযোগ রয়েছে তিনি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন।

২০০১ সালে প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে পারিবারির কলহ ও ঝগড়া-ঝাটির কথা শুনতে পান। সে সময় বিশপের দ্বিতীয় একটি সম্পর্কের কথা শোনা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, উইলিয়ামের স্ত্রী তালাক দিতে চাইলে তিনি তাকে হত্যা করেন। এ ছাড়াও তিনি ব্রিটনি ও ববি নামে ১২ ও ১০ বছর বয়সি তার দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর তিনি গ্যাস স্টোভে আগুন দিয়ে বাড়ি জ্বালিয়ে দেন এবং পালিয়ে যান।

৪. অ্যালেক্সিস ফ্লোরেস
পাঁচ বছর বয়সি অ্যারিয়ানা ডিজেসাস নামে এক মেয়ে শিশুকে ২০০০ সালের জুলাই মাসে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফিলাডেলফিয়া এলাকাতে মেয়েটি হারিয়ে যাওয়ার আগে ফ্লোরেস তার পরিচয় প্রকাশ করেছিল কার্লোস নামে। এরপর সে শিশুটির বিল্ডিংয়ে তিনি আশ্রয় নেন।

তারপর অবশ্য তিনি সে বিল্ডিং থেকে চলে যান। আর তার কয়েকদিন পর সে বিল্ডিং থেকেই মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

সাত বছর পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সে অপরাধের এলাকা থেকে ফ্লোরেসের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়।

৫. ফিদেল আরবিনা
১৯৯৮ সালে আরবিনা শিকাগোর এক নারীকে যৌন নির্যাতন ও আঘাত করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি ২২ বছর বয়সি অন্য এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন।

আরবিনা যেখানে কাজ করতেন সেখানে ওই নারী তার গাড়ি নিয়ে যান। এরপর পুলিশ সেই নারীর পোড়া দেহ একটি বাক্সের ভেতর থেকে উদ্ধার করেন।

২০১২ সালে এ তালিকায় প্রবেশ করেন আরবিনা। মেক্সিকো থেকে তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।

৬. গ্লেন স্টুয়ার্ট গুডউইন
দুইবার জেল থেকে পালিয়ে যাওয়া দুধর্ষ অপরাধী গ্লেন। ১৯৮৭ সালে কিম লেভ্যালি নামে স্থানীয় এক ড্রাগ ডিলারকে ডাকাতি করার পর তিনি ডজনখানেক ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি সে দেহটিকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিচারে ২৬ বছরের জেল হওয়ার পর এ অপরাধী জেলখানা থেকে পালিয়ে যান। এরপর ১৯৯১ সালে তিনি অন্য একটি খুন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে তিনি এ তালিকায় স্থান পান।

৭. এডওয়ার্ডো র‌্যাভেলো
মেক্সিকোর সঙ্গে সংযুক্ত অন্য এক ভয়ঙ্কর অপরাধী র‌্যাভেলো। টেক্সাসের একটি কুখ্যাত অপরাধী চক্রের নেতা এ ব্যক্তি। এ ছাড়া তিনি নিজেও একজন হিটম্যানের ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ম্যাক্সিকো ও টেক্সাসের বহু অপকর্মের হোতা এ ব্যক্তি। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এক কনসুলেটকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০০৯ সালে এ তালিকায় ওঠা র‌্যাভেলো পরিচয় লুকানোর জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক সার্জারি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরিবর্তনের মতো কৌশল।

৮. ভিক্টর ম্যানুয়েল জেরেনা
১৯৮৩ সালে কানেক্টিকাট রাজ্যে গার্ডের চাকরি করার সময় প্রতিষ্ঠান থেকে এ ব্যক্তি ৭০ লাখ ডলার নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি বন্দুকের মুখে তার দুই সহকর্মীকে নেশাজাতীয় ইঞ্জেকশন দেন। তারপর তিনি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের একটি গ্রুপ ছিল যারা এই কাজ করতো। এ গ্রুপের অধিকাংশ মানুষই ধরা পড়েছে। তবে জেরেনাকে কখনোই ধরা যায়নি।

৯. জোস ম্যানুয়েল গার্সিয়া গুয়েভারা
২০০৮ সালে গুয়েভারা একটি মোবাইল হোমে ঢুকে ওয়ান্ডা বার্টন নামে ২৬ বছর বয়সি এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। এ সময় তার চার বছর বয়সি ছেলে সেখানে ছিল। এরপর এ ব্যক্তির ডালাসে চলে যান। তিনি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বাস করছেন বলে ধারণা করা হয়।

১০. সেমিয়ন মগিলেভিচ
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত একটি কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানের হাজারো বিনিয়োগকারীদের থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি ডলার হাতিয়ে নেন। এ ঘটনা প্রকাশিত হয়ে পড়লে তিনি পালিয়ে যান। এফবিআই জানিয়েছে এরপর তিনি রাশিয়ান পাসপোর্ট নেন। এ ছাড়াও তিনি ইসরায়েল, ইউক্রেন ও গ্রিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে তিনি অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, খুন ও পতিতাবৃত্তির ইন্ধনদাতা। হেন অপরাধ নেই যার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সূত্র : ইন্টারনেট

Comments
Loading...