মুসার পক্ষে অস্ট্রেলীয় সাক্ষী

0 ১৯

musa‘এভারেস্ট জয়’ বিতর্কে শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন মুসা ইব্রাহিম। মঙ্গলবার তিনি তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে তার এভারেস্ট জয় সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ হাজির করেন।

একই সাথে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহী ব্রেন্ডন ও’ম্যাহনি। মুসার এভারেস্ট আরোহনের পক্ষে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি তখন তৃতীয় ধাপে (থার্ড স্টেপ) ছিলাম। মাত্রই তখন সূর্য উঠছিলো, চারিদিক ধীরে ধীরে ফর্সা হচ্ছে। আমার সামনে তখন উজ্জ্বল কমলা রঙের জ্যাকেট পরা একজনকে দেখতে পেলাম যিনি রশি বেয়ে চূড়ায় উঠছিলেন। এর ২৫/৩০ মিনিট পর আমি নিজেও এভারেস্টের চূড়ায় উঠি। এরপর নামার সময় আবার দ্বিতীয় ধাপে (সেকেন্ড স্টেপ) তার সাথে আমার দেখা হয়। সে তখন এক জায়গায় বেকায়দাভাবে পড়ে ছিলো। সে ছিলো মুসা ইব্রাহিম। তখন তার পরনে ছিলো উজ্জ্বল কমলা রঙের জ্যাকেট। সে বিপদে পড়েছিলো। আমি ও আমার শেরপা মিলে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসি। … …আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি কী ঠিক আছো? সে উত্তর দেয় “হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি, তবে খুব ক্লান্ত। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, “তোমার নাম কী, কোত্থেকে এসেছো? সে বলে, “আমার নাম মুসা ইব্রাহিম, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি…।”

মঙ্গলবার মুসা ইব্রাহিম এভারেস্ট অভিযানে তার জীবন বাঁচানো অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্ডন ও’ম্যাহনির বক্তব্যসহ ইউটিউবে ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন।

ইউটিউবের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

এই ব্রেন্ডন ও’ম্যাহনি ও মুসা ইব্রাহিম প্রায় একই সময়ে এভারেস্ট জয় করেন।  চূড়া থেকে নামার সময় ব্রেন্ডন মুসাকে বিধ্বস্ত অবস্থায় পর্বতের মাঝে আবিস্কার করেন। অক্সিজেন ট্যাংকে বরফ জমে যাওয়ায় মুসা তখন নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন না। পরে ব্রেন্ডন মুসাকে চূড়া থেকে নিচে নিরাপদ বেস ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। ব্রেন্ডন পরবর্তীতে এই ঘটনা তার এভারেস্ট জয় নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি ভিডিওতে বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

ডকুমেন্টারি ভিডিওর লিঙ্ক এখানে

এদিকে মুসা ইব্রাহিম তার ফেসবুক পোস্টে ব্রেন্ডন ও’ম্যাহনির ইউটিউব লিঙ্কটি দিয়ে বলেন, “এই হচ্ছে ব্রেন্ডন ও’ম্যাহনির স্বীকারোক্তি। আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাকে ধন্যবাদ। ব্রেন্ডন, তোমাকে টুপি খোলা সম্ভাষণ। তুমি আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছ, কি এভারেস্টের শৈলশিরায়, কি সমতল ভূমিতে! আমি দুঃখিত ব্রেন্ডন।” (ইংরেজিতে)

এরপর বাংলায় লিখেন, “এভারেস্ট যে আমাকে এভাবেও জয় করতে হবে, সেটা ভাবিনি কখনোই।”

তিনি লিখে, “যাই হোক, সবাইকে বিনীতভাবে ও দ্বিধাহীন হয়ে বলছি – ২৩ মে ২০১০ রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিটে এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছে ৫টা ১৬ মিনিটে যখন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা সেই চূড়ায় উড়িয়েছি, সেই তখন থেকে যে বাংলাদেশ ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ, এটাই আমাদের জন্য গর্বের।”

তিনি আরো লিখেন, “আমাদের – হ্যাঁ, আমি বলছি আমাদের – যে লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে এভারেস্টজয়ী দেশ হিসাবে পরিণত করার, সেই সফল অভিযানের প্রমাণ বারবার আমি উপস্থাপন করবো দেশের কাছে, দেশের মানুষের কাছে, যতোবার আপনারা চান, ততোবার। এভারেস্ট জয়ের ছবির সবগুলোই আছে আমার ওয়েবসাইটে (http://www.musaibrahim.com.bd/), এভারেস্ট জয়ের সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপিও আমার ওয়েবসাইটে আছে। এভারেস্ট জয়ের গল্পের ধারাবাহিক ডায়েরিও আমার ওয়েবসাইটে অর্ধেক আছে, পুরোটুকু জানতে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত “পাহাড় চূড়ার হাতছানি : কেওক্রাডং থেকে এভারেস্ট” বইটি পড়তে পারেন।

সবার কাছে শুধু অনুরোধ – আমার প্রিয় বাংলাদেশকে আর যেন আমরা হেয় না করি। আমাদের প্রতিযোগিতাটা হোক বাংলাদেশের বেশি বেশি সাফল্যের জন্য, যাতে করে বাইরের দেশের মানুষের কাছে আমরা শির উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, তাদের কাছে যেন আমাদের হেট হতে না হয়।

সবার ভালো কামনায়, সবাইকে ধন্যবাদ।

মুসা ইব্রাহীম”

এদিকে মুসা ইব্রাহিম – তার এভারেস্ট জয়ের সার্টিফিকেট নেই – এই বিতর্কের জবাবে ‘মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন অফ তিব্বত’-এর ইশ্যু করা এভারেস্ট জয়ের সার্টিফিকেটটি তার ফেসবুক প্রোফাইলের কাভার ফটো হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।

মুসা ইব্রাহিমের ফেসবুক প্রোফাইল দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয় নিয়ে গত বেশ কয়েকদিন থেকে বাংলাদেশে বিতর্ক চলে আসছে। ঠিক এই সময় মুসা ইব্রাহিম কেনো অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এই সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন মুসা ইব্রাহিম।

ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি আজ জানিয়েছেন, সেভেন সামিটের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলেশিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কোসিয়াসকো জয় করতে তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন।

তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে রওয়ানা দেবেন। ২০ এপ্রিল মাউন্ট কোসিয়াসকো আরোহন করবেন। ওইদিনই তিনি ফিরে আসতে পারবেন বলে ধারনা করছেন।

এরপর বন্ধু-বান্ধবকে তার সাথে পাহাড়ে ওঠার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি ৪টি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

Comments
Loading...