রানা স্ত্রী সাথীর অভিযোগ; অভিনেত্রী পরী মনির সঙ্গে রাত কাটায় পরিচালক

0

Pori moniগত ২০ আগস্ট পূবাইলে সকাল থেকেই সাইমন পরী মনি অভিনীত পুড়ে যায় মন সিনমোর শুটিং করছিলেন যুগল পরিচালন অপূর্ব-রানা। সেখানে হঠাৎ করেই উপস্থিত হোন ছবিটির অন্যতম পরিচালক রানার স্ত্রী সাথী।

তিনি সিনেমার শুটিং সেটে দাঁড়িয়ে প্রাকাশ্যে বলেন, রানা ও পরী মনি প্রেমের কথা। তবে সে সময় রানা তার স্ত্রী সাথীকে জোর করে সেটের বাইরে নিয়ে যান। এবং সাথীকে শারীরিকভাবে অপদস্ত করেন। এর পরই সাথী চিৎকার করে বলেন, ‘রানার সঙ্গে পরীর প্রেম চলছে।’ এ সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক শরীফ এবং চিত্রগ্রাহক পনিরসহ শুটিং স্পটের অনেকেই সাথীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

কি ঘটেছিল সেদিন? তা বিস্তারিত জানতে সাথীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই প্রতিবেদক। তিনি মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকের কাছে সেই ঘটনার বিস্তারিত জানান।

রানার স্ত্রী সাথী বলেন, অনেক দিন ধরেই রানার মোবাইলে যোগযোগ করার চেষ্টা করছিলাম। তবে রানা ফোন না ধরায় আমি তাকে খোঁজ করছিলাম। সেদিন আমি জানতে পারি পূবাইলে রানা একটি সেটে শুটিং করছে। সেটা শুনেই আমি শুটিং স্পটে যাই। সেখানে যাওয়ার পরে রানা আমাকে টেনে হিচড়ে শুটিং স্পটের বাহিরে এনে মারধর করে। এবং বলতে থাকে আমার মান সন্মান শেষ করতে আসছিস! আমি তোর কেউ না।’

তিনি আরো বলেন- সে সময় পরী আমাদের কথা শুনে সেখানে উপস্থিত হোন। তখন রানা, পরীকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘আমি ওকে বিয়ে করেছি। এ সময় রানাকে পরী সবার সামনেই চুমু খায়।’

সাথী আরো যোগ করে বলেন, শুটিং স্পটে হট্টগোল শুনে সেখানে এলাকার লোকজন জমতে থাকে। তা দেখে রানা আমার মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে যায়। এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। (এ কথা বলেই কেঁদে ফেলেন সাথী)। তখন তার হাত থেকে বাঁচার জন্য আমি হাত পা ছুঁড়তে থাকি। এতে রানার চোখে আমার নখের আঁচড় লাগে। পরে আমাকে একটি রুমের ভিতরে আটকে রাখে সে। সেই রাতে পরী মনির সঙ্গে রাত কাটায় রানা।

আপনি এটা কিভাবে জানলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাথী বলেন- পরদিন ২১ আগস্ট সকালে শুটিং স্পট ছেড়ে বাসায় ফিরতে চাই আমি। এজন্য সিনেমাটির আরেক পরিচালক অপূর্বর কাছে রানার খোঁজ করি। কিন্তু অপূর্ব তাকে ডেকে দিতে অসম্মতি জানায়। পরে আমি নিজেই রানার শোবার ঘরের দরজায় অনেকক্ষণ ধরে নক করি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ডাকাডাকির পর পরী, রানার ঘরের দরজা খোলে। এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।

তিনি জানান, ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এর পরও সেদিন সাথীর উপরে চলে অকথ্য নির্যাতন। সেখানে সাথী অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে বাসা পৌছে দেয় চলচ্চিত্র পরিচালক অপূর্ব। এর পর সাথীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এখনো তিনি ঠিক মতো কথা বলতে পারছেন না। শারীরিকভাবে একটু সুস্থ হলেই থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন বলেও জানিয়েছেন সাথী। তবে আর রানার সংসারে ফিরতে চান না তিনি।
 
রানার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় জানতে চাওয়া হলে সাথী বলেন, নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে এর আগে চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সূচনাকে বিয়ে করেছিল রানা। এর পর সাথীর সঙ্গেও একই কায়দায় প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন এ পরিচালক। যা পরবর্তীতে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। এখন আলোচিত নায়িকা পরী মনির সঙ্গেও প্রেম করছেন রানা।

downloadসাথীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাতা রানার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবইলে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি কেউ ধরেনি।

এ ব্যাপারে পরী মনির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পূবাইলে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে! ওটা তাদের পারিবারিক ব্যাপার। আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য আমাকে জড়িয়ে এসব করা হচ্ছে।

এদিকে সাথীর সম্পর্কে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সাথী মিডিয়ায় শ্রাবণী পুষ্প নামে পরিচিত। তিনি মডেলিং এবং সিনেমায় অভিনয় করতেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা রানা সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হয়। তারা ২০১০ সালে বিয়ে করে। এর পর থেকে সাথীর বাসাতেই থাকতেন রানা। শ্রাবণী পুষ্প ওরফে সাথী অপূর্ব রানার পরিচালনায় জীবনে তুমি মরনেও তুমি ও পালাবার পথ নেই শিরোনামে দুটি সিনেমায় কাজ করেছেন। 

Comments
Loading...