শাহবাগে অগ্নিদগ্ধ আরো ১ জনের মৃত্যু ‘বিহঙ্গ’ বিতর্ক ক্রমেই দানা বাঁধছে

0 ১৬

shahabag_bus_fire_intro-1‘বিহঙ্গ’ বিতর্ক ঘনীভূত হয়ে উঠছে। রহস্যাবৃত হয়ে পড়ছে বিহঙ্গ পরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। শাহবাগ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কারা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে এখনো পুলিশ-গোয়েন্দারা অন্ধকারে। পুলিশ মামলার এজাহার ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। এ দিকে বিহঙ্গ পরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
শাহবাগে বিহঙ্গ পরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ঢাকা কলেজের ছাত্র ওহিদুল (২২) গতকাল ভোরে মারা গেছেন। এই ঘটনায় এর আগে নাহিদ মোড়ল (২২) এবং তার ভাই রবিনের (২০) মৃত্যু হয়। ওহিদুর রহমান বাবু ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মৃত ওয়াজিউল্লাহর ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বাবু সবার ছোট। রাজধানীর বংশালের একটি বাসায় থেকে বাবু পড়াশোনা করত।
গত ২৮ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় ১৯ জন দগ্ধ হন। ঘটনার রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাহিদ। এর পর দিন মারা যান তার ফুপাতো ভাই রবিন। সর্বশেষ গতকাল মারা গেলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র ওহিদুর। আগুনের ঘটনায় উসকানিদাতা ও ইন্ধনদাতার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও জামায়াতের ১৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরদিন শাহবাগ থানার এসআই সোহেল রানা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রাায়, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকতুল্লাহ বুলু এমপি, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর সদস্যসচিব আব্দুস সালাম, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি মহিদুল ইসলাম হিরু, হুমায়ুন কবীর রওশন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান, শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদকে আসামি করা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে। ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ ১৬ নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
এ দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই শুরু হয়েছে ‘বিহঙ্গ’ বিতর্ক। ‘বিহঙ্গ’ নামে পরিবহনটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারি পঙ্কজ দেবনাথ। যিনি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বরিশালের একটি আসন থেকে। ২৮ নভেম্বর এই পরিবহনেরই একটি বাসে পেট্রলবোমায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে শাহবাগে। চলতি বছরের ১৩ মার্চ জামায়াতের হরতাল চলাকালে শেওড়াপাড়ার আলহেলাল হাসপাতালের সামনে এই বাসের ভেতর থেকে ককটেল মারা হয়। গত ৬ জুলাই খালেদা জিয়ার গাড়িকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে একটি বাস। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই বাসটি ছিল বিহঙ্গ পরিবহনেরই একটি বাস। এসব কারণেই বিহঙ্গ পরিবহনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। নানা সন্দেহের ডালপালা মেলছে এই বোমা নিক্ষেপ ও হতাহতের ঘটনা নিয়ে। এ দিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে এমন একটি নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে কিভাবে দুর্বৃত্তরা পালালো তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেছেন, বোমা নিক্ষেপের পর চালক বেশ কিছু দূর গাড়িটিকে চালিয়ে নিয়ে যান। এতে হতাহতের পরিমাণ আরো বেড়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। কিন্তু ওই চালক এবং হেলপারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদেরও প্রয়োজন মনে করেনি।
এ দিকে শাহবাগ থানার ওসি গতরাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক রয়েছেন অনেকে। এর চেয়ারম্যান হচ্ছেন পঙ্কজ দেবনাথ। তিনি বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত রিজভি আহমেদ ছাড়া আর কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এ দিকে একাধিক সূত্র জানায়, কারা এই পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় সরাসরি জড়িত তাদের গ্রেফতারে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কোনো উদ্যোগ নেই। তারা দাবড়ে বেড়াচ্ছে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের।

Comments
Loading...