সরকারের হস্তক্ষেপেই রায়ের কপি পেতে বিলম্ব হচ্ছে!

0

কারো হস্তক্ষেপের কারণেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সত্যায়িত কপি পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

রবিবার সকালে বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এরমধ্যে কোর্ট এলাকা থেকে জানানো হয়েছে সোমবার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া যাবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি আজও পাননি না তার আইনজীবীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ বলেন, ‘কোর্টের পেশকার জানিয়েছেন মামলার রায়ের অর্ধেক কম্পেয়ার হয়েছে। বাকি অর্ধেক রবি-সোমবারের মধ্যে কম্পেয়ার করে দেয়া হবে।’

বুধবার বিকালে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ জানান, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের সত্যায়িত কপি আজ আর মিলছে না, কাল দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘আজ বুধবার সকালে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, কপি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। বিকেল ৪টা নাগাদ তা আইনজীবীদের দেওয়া যাবে।’

সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, ‘কিন্তু বিকেলে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এ মামলার রায়ের মূল কপি বিকাল ৩টায় বেঞ্চ সহকারী (পেশকারের) কারেকশান করে দিয়েছেন। এখন এ রায়ের অনুলিপি তৈরি করা হবে। এ ছাড়া এ মামলার অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেছে। তাই আজকে কপি পাওয়া যায়নি। আশা করা যায়, কাল হয়তো আমরা রায়ের কপি পাব’, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বলেন সানাউল্লাহ মিয়া।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মূল রায় ৬৩২ পৃষ্ঠা হলেও রায়ের অনুলিপি হবে ছয় হাজার পৃষ্ঠার বেশি। ওই অনুলিপি হাতে আসার পরই জামিনের জন্য আপিল করতে পারবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, ‘রায়ের অনুলিপির খবর নাই। এগুলো এজাহার, চার্জশিট, এফআর, জব্দ তালিকা, চার্জ গঠন, সাক্ষী, জেরা, ফরোয়াডিং ইত্যাদি।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দেয়া রায়ের কপি পাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও রায়ের কপি পাইনি। আদালত থেকে বলা হয়েছে আগামীকাল (বুধবার) রায়ের কপি সরবরাহ করা হবে। বিশেষ জজ আদালত-৫ এ কপি সরবরাহ করবেন। এ জন্য আমাদের আর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আসতে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কাল (বুধবার) রায়ের কপি পাই, তাহলে পরেরদিন (বৃহস্পতিবার) আপিল করতে পারবো। আপিল করার পর যদি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কাস্টডি অ্যারেস্ট বা প্রোডাকশন অ্যারেস্ট দেওয়া হয় তখন আমরা আদালতে সেগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধ কাস্টডি ওয়ারেন্ট বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কিছুই নেই। এমন কোনও ওয়ারেন্ট তাদের কাছে আসেনি। আমরা ওকালতনামায় সই নেয়ার জন্য কারাগারে এসেছিলাম। তবে কাস্টডি ওয়ারেন্ট কারাগারে না আসায় সেটা জেল সুপারের কাছে রেখে এসেছি।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

Comments
Loading...