সাঈদী যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়: আদালত

0 ১৬

Delwar-Hossain-Sayeedi-যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুক্তিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের জবাবে ক্ষুব্ধ হয়ে আদালত বলেছেন,আসামিপক্ষের ডকুমেন্ট আমলে নিলে সাঈদী যুদ্ধাপরাদের সঙ্গে জড়িত নয়।
সোমবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ যুক্তি গ্রহণ করেন।

প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য বিচারপতিরা হলেন,বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা,বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা,বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার অভিযোগে সাঈদীর বিরুদ্ধে আজ যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে পিরোজপুরে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় মোট ১৩ জন আসামি ছিল। কিন্তু আসামির তালিকায় সাঈদীর নাম ছিল না।

মমতাজ বেগমের করা মামলার ডকুমেন্ট আদালতে জমা দিয়েছেন আসামিপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষ এই ডকুমেন্ট জাল ডকুমেন্ট বলে দাবি করেন।
গতকালের ধারাবাহিকতায় যুক্তি শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। যুক্তির এক পর্যায়ে একজন বিচারপতি তাকে প্রশ্ন করেন,আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে পারল আর আপনারা পারলেননা কেন? ১৯৭২ সালে এ ধরনের কোনো এফআইআর হয়েছিল কি-না? পিরোজপুরে অবশ্যই জিআর রেজিস্ট্রেশন বই আছে,আপনারা কি এই মামলার ডকুমেন্ট চাইতে পারতেন না? আপনাদের অনেক বড় মেশিনারীজ আছে, তাদের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন? আমরা যদি আসামিপক্ষের দাখিল করা ডকুমেন্ট গ্রহণ করি তাহলে অ্যাটলিস্ট আমরা বলতে পারি সাঈদী এ ঘটনায় জড়িত নয়।

এসময় অপর আরেক বিচারপতি বলেন,মমতাজ বেগমের সেই মামলায় মোসলেম মাওলানা, দানেশ আলী মোল্লা,সেকেন্দার শিকদার সবারই নাম আছে শুধু সাঈদীর নাম নেই।

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন,এগুলো এখন পাওয়ার উপায় নেই।

এসময় বিচারপতি বলেন,ট্রাইব্যুনালে একথা বলতে পারতেন যে এগুলো এখন পাওয়া যায়না। তাহলেই তো শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আপনারা শুধু জাল ডকুমেন্ট বলে সাজেশন দিয়ে ছেড়ে দিলেন?

বিচারপিত আরও বলেন,মমতাজ বেগমের এ ডকুমেন্ট বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কোনো ফাইন্ডিংস আছে? এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান দাড়িয়ে বলেন,কোনো ফাইন্ডিংস নেই।

এ পর্যায়ে অপর এক বিচারপতি বলেন,আপনারা ম্যারাথন আর্গুমেন্ট করছেন। অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাহেব অনেক আগে এ বিষয়ে যুক্তি পেশ করেছেন। অনেক সময় পেয়েছেন আপনারা। এ দীর্ঘ সময়ে আপনারা চাইলে এ ডকুমেন্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারতেন।

এ পর্যায়ে আরেক বিচারপতি বলেন,মমতাজ বেগমের মামলায় শুধু যে সাঈদীর নাম অনুপস্থিত তা নয়। বরং সেখানে ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ আছে ইব্রাহীম কুট্টিকে নলবুনিয়ায় হত্যা করা হয় অক্টোবর মাসে।

অপর বিচারপতি বলেন,৭২ সালে কে এবং কেন এ মামলার সার্টিফাইড কপি তুলেছিল এবং (আসামী পক্ষ ১৯৭২ সালে ইস্যু করা মামলার সার্টিফাইড কপি জমা দিয়েছে) কেনই বা সে এতদিন এ কপি সংগ্রহ করে রাখল এ বিষয়ে জেরায় আপনারা কোনো প্রশ্ন করেছিলেন?

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বারবার বলার চেষ্টা করেন মমতাজ বেগমের মামলার এ ডকুমেন্ট ছাড়া আসামিপক্ষের সব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে ১৩তম সাফাই সাক্ষী।

তিনি বলেন,এ ডকুমেন্ট রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি সহকারে জমা নেয়া হয়েছে। এরপর তিনি এ ডকুমেন্ট বিষয়ে আসামিপক্ষের সাক্ষীর জেরা থেকে পড়ে শোনান । তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাজেশন পড়ে শুনিয়ে বলেন,মামলার প্রয়োজনে এ জাল ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে।

যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম,অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন মেহেদী।

আসামিপক্ষে ছিলেন,অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান,গিয়াসউদ্দিন মিঠু,ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন।

Comments
Loading...