২২ ঘণ্টা কাজ করেন কীভাবে, উপাচার্য কলিমুল্লাহ বললেন অবান্তর প্রশ্ন

0 ৯৩

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ৪৫টি অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু কলিমউল্লাহ তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্টো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সৃষ্ট দূরাবস্থার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে দোষারোপ করেন। বলেন, এসব অভিযোগ ও ইউজিসির এমন তদন্ত শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্রয়, প্রশ্রয় ও আশকারায় হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় এ পরিস্থিতি হয়েছে।

এদিকে বিকালেই বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শিক্ষামন্ত্রীকে জড়িয়ে উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্যকে নিতান্তই রুচিবিবর্জিত বলে উল্লে­খ করেছে। এতে বলা হয়েছে, উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে অধিকাংশ কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ শুরু থেকেই উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দৈনিক ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন।

তার এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে উপাচার্যকে অভিযুক্ত করে দেওয়া প্রতিবেদনের পর তিনি ঢাকায় বসে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে আজকে ১৩৫৬ দিন অতিবাহিত। এর মধ্যে তিনি ১১১৯ দিনই ক্যাম্পাসে না এসে ঢাকায় ছিলেন। অথচ উপাচার্য ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন বলে মিথ্যাচার করেছেন। তার সময়েই নকশা পরিবর্তনসহ যত দুর্নীতি হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভরিয়ে ফেলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দৈনিক ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন- উপাচার্য কলিমুল্লাহর এ বক্তব্য নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক সমালোচনা চলছে। রাতে এ নিয়ে বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনে সরাসরি একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয় কলিমুল্লাহকে। সেখানে প্রশ্ন করা হয় কীভাবে তিনি দৈনিক ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন? জবাবে কলিমুল্লাহ বলেন, এটি অবান্তর প্রশ্ন।

তবে যোগদানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ সময়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কলিমুল্লাহ বলেন, করোনার কারণে আমরা ডিজিটালাইজেশনে অভ্যস্ত। দীর্ঘ এক বছর ধরে লকডাউন ছিল পুরো দেশ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং হল বন্ধ ছিল। তবে ডিজিটালি আমরা প্রতিদিনের কাজ সম্পন্ন করেছি।

 

Comments
Loading...