কখনও আলাদা হতে চায় না শিবনাথ-শিবরাম

0

30682_1হেসে খেলে দিন কাটাচ্ছে শিবনাথ-শিবরাম
শরীরের মাঝামাঝি থেকে জোড়া লাগানো তারা। মাথা আর পা দুটি হলেও হাত চারখানা। এভাবেই ১২ বছর ধরে হেসে খেলে দিব্যি বেঁচে আছে দুই ভাই। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব কাজই তারা নিজেরা করে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এ অবস্থায়ই তারা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে পর্যন্ত যায়। চাইলে যেকোনো সময় অস্ত্রপচার করে আলাদা হয়ে যেতে পারে জমজ ভাই শিবনাথ ও শিবরাম। কিন্তু তা কখনও চায় না তারা। শরীরের সাথে সাথে যেন মনও জুড়ে গেছে তাদের। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এভাবেই থাকতে চায় তারা।
শিবনাথ সাহু ও শিবরাম সাহুর জন্ম মধ্য ভারতের রায়পুর থেকে একশ’ কিলোমিটার দূরে বালোদাবাজার লাভান গ্রামে। কোমর থেকে জোড়া লাগানো অবস্থায়ই তারা জন্ম নেয়। আর তখন থেকেই গ্রামের সবাই তাদের দেবতা হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু দিনমজুর বাবা রাজ কুমার ও মা শ্রীমতি সন্তানদের এ অবস্থা দেখে চিন্তায় পড়ে যান। দিনের পর দিন হাসপাতালে ছুটতে থাকেন। একসময় এক চিকিৎসক তাদের জানান, এখন যেহেতু তারা খুব ছোট তাই তাদের আলাদা করতে গেলে ঝুঁকিতে পড়তে হবে। কিন্তু ১২ বছর বয়সে অস্ত্রপচার করে আলাদা করা সম্ভব হবে। এরপর থেকেই বাবা-মায়ের অপেক্ষার পালা শুরু। যখন শিবনাথ-শিবরাম একসাথে সব কাজ করে- তারা দেখে খুব খুশি হন। কিন্তু দুশ্চিন্তা তাদের পিছু ছাড়ে না।
পাঁচ কন্যা ও দুই পুত্রের জনক রাজ কুমার জানান, সবাই আমার সন্তানদের এ অবস্থায় দেখে মজা পায়। কিন্তু শুধু আমিই জানি আমার সন্তানদের কত সমস্যায় পড়তে হয়। বৃষ্টির সময় তাদের হাটতে কষ্ট হয়। একজন যখন হাঁটতে চায় অন্যজন তখন বসে পড়ে। কিন্তু এ নিয়ে দু’ভাই কখনও ঝগড়া করে না। যদি শিবনাথ বলে খেলবে তখন শিবরামও রাজী হয়ে যায়।
ধীরে ধীরে যখন শিবনাথ-শিবরাম বড় হলো তখন ডাক্তাদের পরামর্শ মতো তারা হাঁটা-চলা ও কাজ করতে শিখতে থাকে। তারা নিজের কাজগুলো নিজেরাই করে। খাওয়া, গোসল, জামা-কাপড় পর্যন্ত নিজেরা পড়ে। একজন আরেকজনের চুল আচড়ে দেয়।
দুই ভাই জানায়, আমরা এভাবেই একসাথে থাকতে চাই। কখনও আলাদা হতে চাই না। এভাবেই বুড়ো হতে চাই।
রাজ কুমার বলেন, সৃষ্টিকর্তা তাদের এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তাই তারা যা চায় আমি তা-ই করব। তারা যদি একসাথে থেকে খুশি হয়, আমিও খুশি। এর বেশি কিছু আমি চাই না।
তিনি আরো বলেন, যদি ডাক্তারও শিবনাথ-শিবরামকে আলাদা করার কথা বলেন আমি করব না। টাকার প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। আমি কষ্ট করে তাদের বড় করেছি, করব। আমার টাকার দরকার নেই। ওরা পড়াশুনায় খুব ভালো। স্থানীয় স্কুলগুলোতে সবচেয়ে ভালো ছাত্রদের মধ্যে ওদের নামও আছে।
স্থানীয় একজন ডাক্তার জানান, শিবনাথ-শিবরাম পুরোপুরি সুস্থ আছে। তাদের মস্তিস্ক, ফুসফুস, হৃৎপিন্ড দুটি হলে পাকস্থলী একটি। তারা চাইলেই আলাদা হতে পারে। কিন্তু তারা একজন আরেকজনকে ছাড়তে চায় না।
দুই ভাইয়ের মধ্যে শিবনাথ একটু দুর্বল। তবুও উচ্ছলতা একটু কম নয় তার। জানায়, আমরা সব কিছুই করতে শিখেছি। তাই নিজেদের কাজ নিজেরাই করতেও পারি। একসাথে খাই, পড়াশুনা করি, ক্রিকেট খেলি। এমনকী সাইকেলে চড়ে স্কুলেও যাই। কোনো সমস্যা হয় না আমাদের।
শিবনাথ ও শিবরামের ছবি দিল্লির গুড়গাওয়ের ফরটিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়েছিল। তিনি জানান, শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব। তবে শিবনাথের একটু সমস্যা হবে। তার কোনো পা থাকবে না। তাকে সবসময় ভালোভাবে দেখাশোনা করতে হবে। অপরদিকে শিবরাম দুই পা নিয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। অস্ত্রপচারটি খুব ব্যায়বহুল হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ৫০ হাজার শিশুর মধ্যে এমন একটি শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে এক শতাংশ শিশু মাত্র এক বছর বয়সে মারা যায়। আর বাকী দুই-তৃতীয়াংশ শিশু গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
সূত্র : ডেইলি মেইল

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More