ইসরাইলকে ধ্বংস করতে হবে

0 ৮৪

ফিলিস্তিনে ইসরাইলিদের সকল নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। এ সময় তারা দেশের সকল কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি জানান। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ন্যাশনাল সলিডারিটি ফর ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। সভায় তারা বলেন, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া। এটা কোনো দেশ নয়। ইহুদিদের ইসরাইলকে যুদ্ধের মাধ্যমে ধ্বংস করতে হবে। আলোচনা সভায় বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক সচিব, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেকে একক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই গাজায় এই নির্লজ্জ হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ইসরাইল কোনো রাষ্ট্র নয়, বিষফোঁড়া। এটা একটা যুদ্ধমেশিন। ইসলাইলকে যুদ্ধের মাধ্যমেই শেষ করতে হবে।

সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) নুরুদ্দিন খান বলেন, ইসরাইল যে একতরফাভাবে আক্রমণ করেছে তা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আধুনিক বিশ্বে এই জঘন্য অপরাধ চলতে পারে না। এমন হিংস্রতা চলতে দেয়া যায় না।

ফিলিস্তিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংহতি জানিয়ে চিঠি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এটাই প্রকৃত কথা নয়, এজন্য আপনাকে ফিলিস্তিনে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থায়ন করতে হবে। ফিলিস্তিনদের সামরিক অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের ভুলভ্রান্তি সব ভুলে যেতে হবে। পাকিস্তানকে সাথে নিয়ে তুরস্ক, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ সকলকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। বাংলাদেশে ১০ হাজার লোককে সামরিক ট্রেনিং দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে যুদ্ধে পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, একইভাবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে কাশ্মীরের জন্য এবং ভারতে মাওবাদীরা আন্দোলন করছে তাদের সমর্থনের জন্য। আমরা যদি এটা না করি তাহলে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হবে। বঙ্গবন্ধুর সংবিধানে বলা হয়েছে। পরিষ্কারভাবে লেখা রয়েছে, যেকোনো জায়গায় অধিকারের জন্য সংগ্রাম চলবে তাদের সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি প্যালেস্টাইনের জনগণের লড়াইয়ের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। আমাদের লড়াইয়ের বাতি জ্বালাতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন ধর্মীয় কথা বলেও সাম্রাজ্যবাদের পা চাটে। এর মধ্যে অনেকেই আছেন সাহস করে কথা বলেন না বা বলতে চান না। আমাদের আরো সাহসী হতে হবে। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, ফিলিস্তিনে মানুষ যারা প্রতিদিন ইসরাইলের হাতে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার তাদের পক্ষে সংহতি জানানোর জন্যই আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্যালেস্টাইনের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আছি। আমরা এই সভার আয়োজন করেছি নির্দলীয় ভিত্তিতে, জাতীয় আবেদনে।

গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর অনেক বছর যাবৎ এই অন্যায় চলছে। সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই। কিন্তু এবার কিছুটা আশার আলো দেখছি। কারণ সারা বিশ্বে সাধারণ বিবেকবান মানুষ পালেস্টাইনের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানও ইসরাইলের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্যালেস্টাইনে যা ঘটছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জঘন্য অপরাধ। জায়নবাদ যেভাবে প্যালেস্টাইনবাসীর সকল অধিকার হরণ করেছে তার প্রতিবাদে আমাদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, কমরেড খালেকুজ্জামান, ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, সঙ্গীত শিল্পী হায়দার হোসেন, ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরী প্রমুখ।

উৎসঃ   ইনকিলাব
Comments
Loading...