কানাডায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিসহ ৯০ হাজার বিদেশির

0 ৬৪

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব মন্ত্রী মার্কো ই. এল মেন্ডিসিনো ৯০ হাজারেরও বেশি প্রয়োজনীয় কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী (স্নাতক), যারা কানাডার অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ১৪ এপ্রিল তিনি এই ঘোষণা দেন।

দেশটিতে যারা অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক স্নাতক, যারা করোনা মহামারির সাথে লড়াই করতে ও কানাডার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের এই স্থায়ী হওয়ার মর্যাদা দেওয়া হবে।

এতে অগ্রাধিকার পাবেন কানাডার হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার হোমগুলোতে নিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীরা।

কী যোগ্যতা থাকতে হবে?

এই স্থায়ী হওয়ার আবেদনে যোগ্য হওয়ার জন্য শ্রমিকদের হেলথকেয়ার পেশায় বা অন্য কোনো প্রাক-অনুমোদিত প্রয়োজনীয় পেশায় কমপক্ষে এক বছরের কানাডীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক স্নাতকদের অবশ্যই শেষ ৪ বছরের মধ্যে একটি যোগ্য কানাডিয়ান পোস্ট-সেকেন্ডারি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে হবে এবং তা ২০১৭ সালের জানুয়ারির আগের নয়।

কবে থেকে শুরু হবে আবেদন?

২০২১ সালের ৬ মে থেকে ইমিগ্রেশন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব কানাডা (আইআরসিসি) তিনটি স্ট্রিমের আওতায় আবেদন গ্রহণ করতে শুরু করবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবাতে অস্থায়ী কর্মীদের জন্য ২০ হাজার আবেদন, অন্যান্য নির্বাচিত প্রয়োজনীয় পেশায় অস্থায়ী কর্মীদের জন্য ৩০ হাজার আবেদন এবং কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ হাজার আবেদন নেওয়া হবে।

সম্প্রতি দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ধরে রাখতে বার্ষিক অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন দফতর।

দেশটিতে এ বছর এরই মধ্যে ৭০ হাজার অভিবাসীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। যদিও এ বছর ৪ লাখেরও বেশি অভিবাসীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কানাডা সরকার।

তবে, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে, সেটি আপাতত সম্ভব না হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে অস্থায়ীভাবে বসবাসরতদের স্থায়ী অভিবাসনের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কানাডা সরকার। গত বছর প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার অভিবাসীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় দেশটির সরকার।

কবে শেষ হবে আবেদন?

এ বছরের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাওয়া যাবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কানাডায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের আশা পূরণ হতে যাচ্ছে।

গত বছরে ৩০ অক্টোবর কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী মার্কো মেন্ডিচিনুর ২০২১–২৩ সালের মধ্যে ১২ লাখ ৩৩ হাজার অভিবাসী আনার ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনায় বড় বড় সিটির বাইরে সুনির্দিষ্ট কম জনবহুল এলাকায় সেখানকার সুনির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য ইমিগ্রান্টদের আনা হবে। আগামী তিন বছরে ৬০ শতাংশ নেওয়া হবে দক্ষ অভিবাসী—এক্সপ্রেস এন্ট্রি, পিএনপি, অ্যাগ্রিফুড পাইলট প্রোগ্রাম, রুরাল অ্যান্ড নর্থার্ন ও মিউনিসিপাল পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে। ফ্যামিলি ক্লাস, রিফিউজি স্পনসরশিপ, হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যান্ড কম্পাশনেট ও অ্যাসাইলাম ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাসরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সভাপতি রুপক দত্ত বলেন, নতুন ও দক্ষ জনশক্তি বিশেষ করে এর মধ্যে যারা বাংলাদেশি রয়েছেন তারা কানাডায় স্থায়ী নাগরিকত্ব অর্জন করে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এটাই আমার বিশ্বাস।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সাবেক ছাত্রনেতা কিরন বনিক শংকর বলেন, আমার ৩০ বছরের কানাডিয়ান জীবনের অভিজ্ঞতায় এই প্রথম এ ধরনের একটি আশানুরূপ সংবাদ পেলাম। বাংলাদেশিদের জন্য এটি খুবই সুসংবাদ। অভিবাসন মন্ত্রীর এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে তুলবে- এমনটাই আমার প্রত্যাশা।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, কানাডার অভিবাসন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর কানাডা বিভিন্ন পেশায় যেভাবে প্রবাসীদের স্থায়ী আবাসিক হওয়ার অনুমোদন দেয়, ৯০ হাজার স্থায়ী অভিবাসনের প্রক্রিয়াটি তা থেকে ভিন্ন কিছু নয়। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সল্পতম সময়ে আবেদন নিষ্পত্তি, কিছু পেশায় বেশিসংখ্যক আবেদন অনুমোদনের সম্ভাবনা ছাড়া এতে আর কোনো নতুনত্ব নেই। বাংলাদেশিদের এ প্রোগ্রাম থেকে বিশেষভাবে লাভবান হওয়ারও খুব সুযোগ নেই।

বিডি প্রতিদিন

Comments
Loading...