জাতিসংঘে ভারতের সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ দিলো পাকিস্তান

0 ৮২

জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের বিবরণ পেশ করেছে পাকিস্তান। গেল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে এ বিবরণ পেশ করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক মুখপাত্র। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ভারতের সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বিবরণ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, ভারত সরকার এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাহরীকে তালিবান পাকিস্তানকে অর্থায়ন করছে এবং বালুচের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের মাটিতে হামলা চালিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার এ দু’টি দেশের মধ্যে এ জাতীয় অভিযোগের আদান-প্রদান নৈমিত্তিক হলেও পাকিস্তানের এবারের অভিযোগের মধ্যে অভিযুক্ত ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের নাম, অভিযুক্ত সভার তারিখ, ফোনালাপের রেকর্ড, কথোপকথনের অডিও ক্লিপ এবং ব্যাংকে অর্থ লেনদেনের প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তবে, জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে মিথ্যে কথার দলিল পেশ করেছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে জাতিসঙ্ঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের যোগ দেয়াটা স্বাভাবিকভাবেই হজম করতে পারছে না পাকিস্তান। এ কারণেই ভুয়া কান্না কেঁদে সমবেদনা আদায়ের চেষ্টা করছে। তিরুমূর্তি জানান, একের পর এক ঘটনায় উপত্যকায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে পাকিস্তান।

গত ২৩ নভেম্বর বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে তিরুমূর্তি বলেন, তারা একটি নতুন খনন করা ১শ’ ৫০ মিটার ভ‚গর্ভস্থ টানেল আবিষ্কার করেছেন। পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশে মুহাম্মাদভুক্ত ৪ বিদ্রোহী গত সপ্তাহে কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং তাদের ট্রাকটিকে রুটিন পরীক্ষার জন্য থামানো হলে গুলি চালায়। পাকিস্তান অবশ্য অভিযুক্ত হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কাশ্মীরের জনগণের ওপর ভারতের দমন-পীড়ন থেকে বিশে^র দৃষ্টি সরিয়ে দেয়াই ভারতের উদ্দেশ্য।

কাশ্মীরের হিমালয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সঙ্ঘাতের কেন্ত্রবিন্দু। জম্মু ও কাশ্মীরের উপত্যকা জুড়ে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর প্রায়ই ভারি গোলাবর্ষণ চলছে। গত ১৩ নভেম্বর ভারত বলেছিল যে, এলওসি-র বেশ কয়েকটি অংশে পাকিস্তানের গুলিতে চার বেসামরিক লোক এবং সুরক্ষা বাহিনীর ৫ সদস্য নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছিল। পাকিস্তান পাল্টা অভিযোগে বলে যে, তার ৫ বেসামরিক নাগরিক এবং এক সৈন্য ভারতীয় আক্রমণে মারা গেছে।

যদিও ভারত ও পাকিস্তান ২০০৩ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলটিতে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছিল, তবে এক দশক পর তা ভেঙে যায়। ২০১৮ সাল থেকে দু’দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, পাকিস্তান ১০ শতাংশ সহিংসতা বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে এবং পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হয়ে চলেছে। ২০১৯ সাল ভারত ৩ হাজার ৪শ’ ৭৯টি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন রেকর্ড করেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ৩ হাজার ৮শ’রও বেশি।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয় এবং অঞ্চলটিকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসে। গত বছর ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে প্রত্যাখ্যান করে। মোদি সরকার কাশ্মীরের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে এবং ফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে সেখানে আগামী ২৮ নভেম্বর পঞ্চায়েত (গ্রাম পরিষদ) নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সূত্র : আলজাজিরা, দ্য ইকোনোমিস্ট।

Comments
Loading...