বাংলাদেশে চীনের কাছে হেরে গেল ভারত

0 ৭৭

টিকা কূটনীতিতে বাংলাদেশের মাঠে চীনের কাছে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হলো ভারত। অথচ, বাংলাদেশে বিজয়টা ভারতের ছিলো প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু ভারতের ভুল কৌশল, স্বার্থপর কূটনীতির মাশুল দিতে হলো। টিকা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারত যা করেছে, তার প্রভাব দুদেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের উপর পরবে বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।

বাংলাদেশে টিকা কূটনীতি শুরু করেছিল ভারতই। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ভারতের সিরাম ইনিস্টিটিউট উৎপাদনের অনুমতি পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেক্সিমকো এই টিকা বাংলাদেশে আনার জন্য সিরামের সংগে যোগাযোগ করে। পরে সিরামের সংগে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার এবং বেক্সিমকো। অগ্রিম টাকাও দেয়া হয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে আকস্মিক ভাবেই টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এটা অপেশাদার এবং দায়িত্বহীন আচরণ বলেই মানছেন সব মহল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি টিকা রপ্তানি নাই করতে পারবে তাহলে চুক্তি করলো কেন? চুক্তি করে কিছু টিকা রপ্তানি করে পরে টিকা সরবরাহ বন্ধ অনৈতিক।

টিকা কূটনীতি চীন শুরু করেছিল পিছন থেকেই। তারা প্রথমে তাদের আবিষ্কৃত টিকার তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় অজ্ঞাত কারণে সেই অনুমতি আটকে রাখে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে যখন চীনকে অনুমতি দেয়া হয়, ততক্ষণে চীন অন্যদেশে এই ট্রায়াল সম্পন্ন করে। কিন্তু চীন এক্ষেত্রে পেশাদারী মনোভাব দেখায়। এনিয়ে তারা কখনো অসন্তোষ প্রকাশ করেনি। ভারতকে টেক্কা দেয়ার জন্য চীন টিকা উৎপাদনে তাদের সক্ষমতা বাড়ায়।

ভারত যখন টিকা রপ্তানি বন্ধ করে বাংলাদেশকে এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে, তখন দ্রুত সুযোগটা কাজে লাগায় চীন। বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডোজ টিকা দিয়ে, আস্থা অর্জন করে। এরপর রাশিয়ার চেয়েও দ্রুত গতিতে দরকষাকষি করে চীন। আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে, চীনের কাছ থেকে টিকা কেনার চুক্তি চূড়ান্ত। প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসবে। বিপদেই বন্ধুর পরিচয়। টিকা দিয়ে চীন সেই কথাটিই মনে করিয়ে দিলো। এর ফলে, বাংলাদেশ যেমন হাফ ছেড়ে বাজলো, তেমনি ভারতের আসল রূপটাও দেখলো। ভারতের উপর নির্ভর করলে কি হয় তা বাংলাদেশ যেন নতুন করে শিখলো।

উৎসঃ   বাংলা ইনসাইডার
Comments
Loading...