লন্ডনে চিকিৎসা দিয়ে নিজেই করোনায় মারা গেলেন ড. ইরফান

0

মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন ড. ইরফান হালিম। তিনি বৃটেনের গ্রেট ওয়েস্টার্ন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। সেখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে তুলছিলেন তিনি। রোগীদেরকে সুস্থ করলেও নিজে সেই ভাইরাসের কাছে পরাজিত হয়েছেন। আত্মত্যাগের এক নজির স্থাপন করেছেন ড. ইরফান। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলেছে, ১০ই সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে ১৪ই নভেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

তারা বলেছেন, ড. ইরফান চার সন্তানের পিতা। এই হাসপাতালে করোনায় মারা যাওয়া তিনি তৃতীয় চিকিৎসক। তার স্ত্রী সায়লা হালিম বলেছেন, হৃদয় খান খান হয়ে ভেঙে গেছে। কল্পনাতীত এ অনুভূতি। ওদিকে ড. ইরফানের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য এক লাখ পাউন্ডের টার্গেট ধরে গোফান্ডমি পেজ খুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জমা হয়েছে কমপক্ষে ৯০ হাজার পাউন্ড।

ড. ইরফান হালিমকে যখন হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে নেয়া হয় প্রথম সেখানেই তিনি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। এই ওয়ার্ডেই কাজ করেছেন প্রায় ২৫ বছর। তাকে সেখানে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হয়। তারপর বিশেষ যতেœর জন্য তাকে লন্ডনে রয়েল ব্রোম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুতে স্ত্রী সায়লা হালিম বলেছেন, ইরফান আমাকে একজন স্ত্রী হিসেবে দিয়েছে ১৫টি জাদুমন্ত্রের মতো বছর। চারটি সন্তানকে দিয়েছে মধুর স্মৃতি। যতদিন দুনিয়ায় বেঁচে থাকবো এই স্মৃতি আমার সঙ্গে থাকবে।

ড. ইরফান ২৫ বছর চিকিৎসা দিয়ে মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। এ প্রসঙ্গে সায়লা ইরফান বলেছেন, ইরফান- তুমি আমার কাছে শুধুই একজন বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলে না। একই সঙ্গে আমাদের চারটি সন্তান এবং আরো অসংখ্য মানুষের বেস্ট ফ্রেন্ড। শান্তিতে ঘুমাও তুমি।

একই হাসপাতালে কাজ করতেন ড. এডমন্ড আদেদেজি এবং ড. থাউং হতাইক। গত বছর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এই দু’জনও। গ্রেট ওয়েস্টার্ন হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কেভিন ম্যাকনামারা বলেছেন, ড. ইরফান হালিম আমাদের সঙ্গে এক বছর ধরে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আমাদের টিমের অমূল্য এক সদস্য। নিঃস্বার্থভাবে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময়ে যখন খুব প্রয়োজন পড়েছিল, তখন তিনি ছিলেন আমাদের পাশে। যাদের জন্য তিনি কাজ করেছেন এবং পুরো সংগঠনের সবাই তাকে মিস করবো। পুরো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তার পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক শোক জানাচ্ছি।

উৎসঃ   মানবজমিন
Comments
Loading...