মেহেদির রং মোছার আগেই মৃত্যু, হাসপাতালে লাশ রেখে স্বামীর পরিবার উধাও

0 ৯৩

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে রিমু আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়ে গেছে স্বামীর পরিবার। সোমবার এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। মৃত রুমি আক্তার (২২) শহরের দক্ষিণ সালন্দর শান্তি নগরে স্বামী তামিম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় একজন মৃত নারীকে নিয়ে কিছু মানুষ হাসপাতালে আসেন। কিছু সময় পরেই হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে লাশটি ফেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দেয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে পেরেই অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি অপারেশন জিয়ারুল জিয়া। তিনি জানান, লাশটি থানায় আনার পর আমরা গৃহবধূর পরিবারের সন্ধান করতে থাকি। পরে মৃতের পিতার পরিবারের সন্ধান পেয়ে তাদের অবগত করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তও চলছে।

নিহত গৃহবধূ রিমুর বাবা আলম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অনেক আশা নিয়ে ১০ মাস আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তবে জামাই নেশা করে। মাঝে মাধ্যেই মেয়েকে নির্যাতন করতো। বেশ কয়েকবার মেয়ে জামাইকে বুঝিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু মেহেদির রং না মোছতেই এবার তারা মেয়েটাকে মেরেই ফেল্লো। আমি হত্যার বিচার চাই। জানি না কার কাছে গেলে সঠিক বিচার পাব।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহতের স্বামী তামিম হোসেনের বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাকিবুল ইসলাম চয়ন জানান, মেয়েটির শরীরে বেশ কিছু জায়গায় ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পোস্ট মডেমের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম জানান, মেয়েটির স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন

Comments
Loading...