স্বামীকে ছয় টুকরো করে দেহ-হাত-পা ফেলেন মহাখালীতে, মাথা ফেলেন বনানীতে

0 ৩৮

রাজধানীর মহাখালী থেকে ময়না মিয়ার হাত-পা ও মাথাবিহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গেল সোমবার (১ জুন) বনানী থেকে ফাতেমাকে গ্রেফতারের পর তার দেখানো জায়গা থেকে ময়না মিয়ার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা জানিয়েছেন, দাম্পত্য কলহের জেরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে অচেতন করে হত্যার পর তিনি লাশ ছয় টুকরো করে আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলেন। বাসা থেকে তিনি একা লাশ সরাতে পারবেন না বুঝতে পেরে ধারালো ছুরি দিয়ে ছয় টুকরো করেন তিনি। তাছাড়া আলাদা আলাদা জায়গায় খণ্ডিত অংশ ফেলে দিলে লাশ শনাক্ত করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হবে না বলেও ধারণা ছিল তার।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ। তিনি জানান, দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী ময়নাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ফাতেমা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার কড়াইল এলাকা থেকে দুই পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কেনেন তিনি। ওইদিন রাতেই জুসের সঙ্গে ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামীকে পান করিয়ে দেন। পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ময়না অচেতন ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে কিছুটা জ্ঞান ফিরলে স্ত্রীকে গালমন্দ করেন তিনি। পরে স্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, এক পর্যায়ে ময়না মিয়া পানি পানি বলে আর্তনাদ করলে ফাতেমা আবারও তাকে ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো জুস পান করান। ময়না নিস্তেজ হয়ে খাটে পড়ে গেলে ওড়না দিয়ে তার দুই হাত শরীরের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন ফাতেমা। মুখে স্কচটেপ দিয়েও আটকে দেন তিনি। ময়না আর্তনাদ করতে থাকলে তার বুকের উপরে বসে স্টিলের চাকু দিয়ে গলাকাটা শুরু করেন ফাতেমা। এ সময় ধস্তাধস্তি করে ময়না ওড়না ছিঁড়ে তার হাত মুক্ত করে ফাতেমার হাতে খামচি এবং মুখ খুলে কামড় দেন। এতে ফাতেমার রাগ আরও বেড়ে যায়। ধস্তাধস্তি করতে করতে দুজনেই খাট থেকে পড়ে যান। এ সময় ময়নার বুকের উপর উঠে ফাতেমা আবার ধারালো চাকু দিয়ে ময়নার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে লাশ ছয় টুকরা করে শরীরের অংশ মহাখালী কাচাবাজারের কাছে ফেলেন। দুই হাত ও দুই পা ফেলেন মহাখালী বাস টার্মিনালে। আর মাথাটি ফেলেন বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পাশে। তারপর বাসায় এসে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন।

এদিকে ফাতেমাকে বনানী এলাকার একটি অফিস থেকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোরকা, ময়না মিয়ার রক্তমাখা জামাকাপড়, ধারালো চাকু, ধারালো দা, বিষাক্ত পেয়ালা, শীলপাটা উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। ফাতেমা ডিবির কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ফাতেমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি বলছে, গত ২৩ মে থেকে ময়না মিয়া তার বাসাতেই অবস্থান করেন। পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সার বন্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়নার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয। অন্যের বাড়িতে কাজ করে তার জমানো টাকা ময়না মিয়া নিয়ে অনৈতিক কাজে খরচ করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমাকে খুন করার কথাও বলেছিলেন ময়না মিয়া। এসব ক্ষোভ থেকেই তিনি স্বামীকে নির্মমভাবে খুন করেন।

উৎসঃ   যুগান্তর
Comments
Loading...