আইন করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ক কাজটি সরকার নিয়ে গেছে: দুদক কমিশনার

0

মানিলন্ডারিং বা অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধ দুদকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে দাবি করেছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক। তিনি বলেন- মানিলন্ডারিংয়ের কাজটি সরকার আইন করে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছে। আমরা দুদক কমিশন জুরিডিকশন দেখবো, যেটা আমাদের জুরিডিকশনে নাই তাতে আমাদের যাওয়ার সুযোগ নেই। ওই বদনাম যাতে আমাদের ঘাড়ে না আসে। অনেক ব্যক্তি মানিলন্ডারিং করে, হাজার হাজার কোটি টাকা মানিলন্ডারিং করে; লাখ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং করে। আমরা কী করবো! আমরা কিছু করতে পারি নাই। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। এ ছাড়া দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিক মতামতের শেষে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, দুদকের আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুদক কী করতে পারে।

যাদের আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে চিঠি জারি করে আমরা আদালতে যাই। আদালত আমাদের শতভাগ সহায়তা করেছেন। আদালত থেকে আমাদের নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করে সেটা বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেই। এরপর কেউ পালিয়ে গেলে দুদককে জিজ্ঞেস না করে, যেখান থেকে পালিয়ে যায়- সেখানে জিজ্ঞেস করতে হবে।

দুর্নীতি প্রমাণ করা অত্যন্ত দুরূহ বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তিলকে তাল বানিয়ে বলি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেও মিথ্যা বলে। সাক্ষীও সত্যি কথা বলে না। দুর্নীতি প্রমাণ করাটা অনেক দুরূহ। এজন্য আমি বলবো, যারা সমাজে দুর্নীতিবাজ হিসেবে জনশ্রুত; তাদেরকে চিহ্নিত করে বর্জন করলেই হয়তো সমাজে একটি প্রভাব তৈরি হবে। সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সাংবাদিকরা দুদককে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকবে এটা আমরা আশা করি। আমরা তদন্ত, অনুসন্ধানে কোনো ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রেখে তথ্য দিতে আমাদের কর্মকর্তাদের বলা আছে। দুদক সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভাবার কোনো কারণ নাই। আমরা তো একই দেশের নাগরিক। একই সমাজ থেকে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্যও অভিন্ন। সরকারি অফিসে কিছু নিয়মকানুন পালন করতে হয়। এটি আপনি হয়তো হয়রানি হিসেবে ভাবছেন। যেটা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

দুর্নীতি মামলার আসামিদের কেন গ্রেপ্তার করা হয় না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক অযথা কাউকে হয়রানি করতে চায় না। যখনই গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হবে, তখনই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের উদ্দেশ্যে একটাই মেসেজ দুর্নীতি করবেন না, দুর্নীতি যারা করে তাদের বর্জন করবেন। তাদেরকে ঘৃণা করেন। দুর্নীতির টাকা দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে খাওয়াবেন না। বাচ্চাদের বলবো, তোমরা দুর্নীতিবাজ পিতার সন্তান হয়ে থাকবে কিনা চিন্তা করে দেখো। স্ত্রীদের বলবো, আপনারা দুর্নীতিবাজ স্বামীর অর্থে চলবেন কিনা চিন্তা করে দেখবেন। যারা চাকরি করছেন, তাদের বলবো, আপনারা দুর্নীতিবাজ নিয়োগদাতার চাকরি করবেন কিনা ভাবুন। এটাই জনগণের প্রতি আমার আহ্বান।

এদিকে, দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেনেইস্ট করাপশন (র‌্যাক) তিনটি ক্যাটাগরিতে সেরা রিপোর্টের জন্য পুরস্কার দিয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার সিরাজুল ইসলাম, অনলাইন ক্যাটাগরিতে বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু ও টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে মাছরাঙা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কাওসার সোহেলী পুরস্কার পেয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট ছাড়াও ৭৫ হাজার টাকা করে প্রাইজমানি দেয়া হয়েছে। রিপোর্টার্স অ্যাগেনেইস্ট করাপশন র‌্যাকের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য এ পুরস্কার চালু করা হয়েছে। চলতি বছর প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে মোট ২৬টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। সেরা রিপোর্ট বাছাই প্রক্রিয়ার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও বর্তমান আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. মো. গোলাম রহমান, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজওয়ানুল হক রাজা ও এএফপির ঢাকা ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলম।

উৎসঃ   মানবজমিন
Comments
Loading...