চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

0

২০২১ সালে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারিতে যারা সরকারের সমালোচনা করেছে, সেসব অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধেও। এসব চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার প্রমাণ নিয়ে জাতিসংঘ, দাতা ও বেসরকারি সংস্থাগুলো অনেকদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ মহামারিকে ব্যবহার করে একটি হতাশাজনক বার্তা দিয়েছে।

তা হলো, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনার শাস্তি দেওয়া হবে। তবুও সাংবাদিক, চিকিৎসাকর্মী ও অধিকারকর্মীরা থেমে থাকেনি। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, তা তারা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অনেক মানুষ এই প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ প্রচলিত অভিজ্ঞতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, বিশ্বে স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গ্রেফতার বা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

এতে প্রমাণিত হয়, গণতন্ত্রের আহ্বান এখনো শক্তিশালী রয়েছে। এদিকে স্বৈরাচারীরা তাদের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা আরও কঠিন বলে দেখতে পাচ্ছে।

গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদ মারা যান। গ্রেফতারের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মোট ছয়বার তার জামিন আবেদন নাকচ হয়।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ মাস বিচারপূর্ববর্তী আটকাবস্থার পর কারাগারে মারা যান মোস্তাক। ফেসবুকে কোভিড-১৯ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মে মাসে করোনা নিয়ে সরকারি অব্যবস্থাপনার রিপোর্ট করার পর কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতার করে। কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে রাজনৈতিক সমালোচকদের নির্বিচার গ্রেফতার ও বিচার করেছে। এমনকি সরকারের সমালোচনাকারী প্রবাসী সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করেছে।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে সরকার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। দ্বীপের বসবাসযোগ্যতা, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সুরক্ষার বিষয়টি পরিপূর্ণ না ভেবেই প্রায় ২০ হাজার শরণার্থীকে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ওই রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে আশ্রয়শিবিরের একটি ইসলামিক শিক্ষালয়ে হামলায় সাত শরণার্থীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত বছরের দুর্গাপূজার সময় হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়, পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি চালালে চারজন নিহত হন। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে অন্তত আরও তিনজন মারা গেছেন। শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, ওই ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামিকে খালাস দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক।

নারীর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি মোকাবিলার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়ে সারা দেশে বিক্ষোভ হয়। অথচ এখনো একটি যৌন হয়রানি বিল পাশ হয়নি। সাক্ষীর সুরক্ষা দিতে বা বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন করতেও পারেনি বাংলাদেশ সরকার।

jugantor

Comments
Loading...