জামিন পেলেও এখনই মুক্তি মিলছে না ইরফান সেলিমের

0 ৯৪

মদপান ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। অন্যদিকে, চকবাজার থানায় র‌্যাবের দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। তারপরও এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না ইরফান সেলিম।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ইরফান সেলিমের আইনজীবী প্রাণনাথ রায় বলেন, ‘মদপান ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিলে ইরফান সেলিম জামিন পেয়েছেন। তবে কলাবাগান থানায় করা মারামারির মামলায় এখনও চার্জশিট জমা দেয়নি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আবার অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে করা দুই মামলায় আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দিলেও আদালত এখনও আবেদন মঞ্জুর করেননি। তাই কারাগার থেকে মুক্তি পেতে সময় লাগবে।’

আইনজীবী প্রাণনাথ রায় আরও বলেন, ‘আবেদন মঞ্জুর হলে সেই কপি কারাগারে দিলে ওই দুই মামলা থেকে মুক্তি মিলবে। তবে মারামারির মামলায় চার্জশিট না দেওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তাই কবে নাগাদ কারাগার থেকে ইরফান কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে সঠিক বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদকে সস্ত্রীক মারধর করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হবে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে তাতে ঘটনা প্রমাণ করা সম্ভব হবে। এরপরেও প্রতিবেদনে কী আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

গত বছর গত ২৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওয়াসিফ আহমদের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় সংসদ সদস্যের স্টিকার সম্বলিত একটি গাড়ি। ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে ওই গাড়ি থেকে দুই-তিন জন নেমে ওয়াসিফ আহমদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গালিগালাজ করে ও হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে জানা যায় গাড়িটি সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের। ওই রাতে গাড়িটি নিয়ে বের হয়েছিলেন তার ছেলে ইরফান সেলিম।

এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন নৌ কর্মকর্তা ওয়াসিফ। ওই মামলার আসামিরা হলেন- ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দীপু ও গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জন।

এরপর ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পুরান ঢাকার দেবীদাস রোডের হাজি সেলিমের বাসায় অভিযান শুরু করে। দিনভর অভিযান শেষে ইরফান সেলিমকে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও মদপানের অভিযোগে কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম। সেই মামলায় ইরফান সেলিম কারাগারে রয়েছেন।

সারাবাংলা

Comments
Loading...