জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এটা তো অস্বীকার করা যাবে না : মন্ত্রী

0 ১০৮

প্রথম ধাপে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এ তালিকায় রয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম রয়েছে তালিকায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এটা তো অস্বীকার করা যাবে না। তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন। পরবর্তীসময়ে তিনি আদর্শচ্যুত হন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রকাশসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, মোসলেউদ্দীন, ডালিম, রাশেদ চৌধুরীরা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটি সত্য। কিন্তু তারা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে খুনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। কেউ পরোক্ষভাবে কেউ প্রত্যক্ষভাবে। খন্দকার মোশতাক অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। যা এখন আদালতস্বীকৃত। তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছিল। তিনি মারা যাওয়াতে আর বিচার হয়নি।

খন্দকার মোশতাকের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এটা অস্বীকার করা যাবে না। আবার তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যায় অভিযুক্ত। যেহেতু রায় প্রকাশের আগেই তিনি মারা যান তাই তার সাজা হয়নি। তবে তিনি তালিকায় থাকবেন।

আগের সব তালিকা বাতিল জানিয়ে তিনি বলেন, এই তালিকা প্রকাশ হওয়ার ফলে আগের সবগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এটিই চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম পর্যায়ের তালিকা।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সব বিভ্রান্তি দূর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যার জন্য সময় নিয়ে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা শতভাগ নির্ভুল করার জন্য সময় নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) এন্ট্রি করেছি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম। তবে প্রায় ৩৫ হাজার জনের বেসামরিক গেজেট জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অনুমোদন না থাকায় এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এসব গেজেট নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে আমরা ৪৩৪ উপজেলার প্রতিবেদন পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং আপিল শুনানি শেষে ৩০ জুনের মধ্যে যাচাই-বাছাইধীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশ পাবে।

রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। আমরা জামুকার আইন সংশোধন করে রাজাকারের তালিকা প্রণয়নের কাজ করছি। আশা করছি, আগামী সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাস হলে আমরা রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করতে পারব।

মুক্তিযোদ্ধার তালিকার শুরুতেই রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। এরপর রয়েছে জাতীয় চার নেতা-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

পরে বিভাগওয়ারির হিসাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭ হাজার ৩৮৭ জন, চট্টগ্রামে ৩০ হাজার ৫৩ জন, খুলনায় ১৭ হাজার ৬৩০ জন, রংপুরে ১৫ হাজার ১৫৮ জন, রাজশাহীতে ১৩ হাজার ৮৮৯ জন, বরিশালে ১২ হাজার ৫৬৩ জন, ময়মনসিংহে ১০ হাজার ৫৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১০ হাজার ২৬৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে।

উৎসঃ   কালের কণ্ঠ
Comments
Loading...