ডিজিটাল আইন সংশোধনের প্রয়োজন দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0 ৮৩

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছেন ওই বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য। সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা হয়।

এতে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোনো অপপ্রয়োগ হয়নি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই আইনটি নিয়ে ‘বিকল্প’ কিছু ভাবছে না তার সরকার। শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে ওই আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলেন, ‘কার্টুনিস্ট কিশোর বাকস্বাধীনতার কথা বলে যা লিখেছে সেটা কি যুক্তিযুক্ত হয়েছে? বাকস্বাধীনতার কথা বলে কিশোর কী করেছে, তার লেখা কি দেশবাসী জানে? আপনারা এগুলো দেশবাসীকে জানান। এই আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে গত বছরের মে মাসে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তারাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। লেখক মুশতাক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর আইনটি বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। একই দাবিতে গতকাল রাজধানীতে সমাবেশ করেছে বামপন্থি তিনটি ছাত্র-সংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

কার্টুনিস্ট কিশোর প্রসঙ্গে গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামে ফেইসবুক পেইজে কী করা হয়। বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এগুলো। অপপ্রচার ছড়ানো হয়। ওখানে যে ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়। এগুলো জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।’

‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামের ফেইসবুক পেইজে সক্রিয় ছিলেন কার্টুনিস্ট কিশোর। তিনি এবং শায়ের জুলকারনাইন নামে এক ব্যক্তি পেইজটির অ্যাডমিন। পেইজটিতে বাকস্বাধীনতার নামে সরকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছেতাই লেখালেখি হয় বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় মনোনয়ন বোর্ডের কয়েক সদস্য বলেন, বাকস্বাধীনতা মানে অন্যের অধিকার খর্ব করা নয়, অন্যের সম্মানহানি করা নয়।

সভায় সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেনআলজাজিরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক প্রতিবেদন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত করেছে। বার্গম্যান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার চক্রান্ত করেছে। সে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। বিএনপি-জামায়াতের বিদেশে পালিয়ে থাকা নেতারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে দেশের মানুষকে সচেতন করার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্দেশ দেন বলেও জানান দলটির নেতারা।

বৈঠকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেনবিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে না, এটা বিশ্বাস করি না। তারা সবশেষ নির্বাচন করবে, ভিন্ন ফরম্যাটে। তারা নির্বাচন বানচালের জন্য আগেভাগে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে তারা নির্বাচন করবে না।

এদিকে দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মনোনয়ন বোর্ড স্কুল-কলেজ না খোলার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা। তারা আরও জানান, এ বৈঠক আগামীকাল সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দশম জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়। এর আগে-পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সম্পাদক পরিষদ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা আপত্তি তুলেছিল। আইনটির অনেক ধারার ‘অপপ্রয়োগ ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি’র আশঙ্কা করেন তারা।

উৎসঃ   দেশ রূপান্তর
Comments
Loading...