ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ.লীগের বর্ধিত সভায় বাগ-বিতণ্ডা

0 ২০

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বাগ-বিতণ্ডা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায় এই ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, সভার শুরুতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আটটি সাংগঠনিক টিমের প্রতিনিধি দলের একজন করে বক্তব্য দেন। এরপর ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বক্তব্য দিতে যান। এ সময় মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টু মির্জা আজমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘লিডার আমাদের কিছু বলার আছে।’ মহানগরের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আনিস আহমেদও একই অনুরোধ করেন।

এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সেন্টু ও আনিসকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘থামেন। কীসের বক্তব্য আছে? একপর্যায়ে সেন্টুকে তুই-তুকারি করেন ধমক দেন হুমায়ুন কবীর।

সেন্টু বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। আমার বাবা হাফেজ মুসা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমরা দলের জন্য কাজ করেছি, করে যাচ্ছি। আমাকে এভাবে চাকর-বাকরের মতো ধমকাচ্ছেন কেন? আপনি ধমক দিয়ে কথা বলতে পারেন না।’

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য জসিম উদ্দিন আজম ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আনিস আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কথা শুনতে হবে। তখন নগরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তুমি কে? তোমার কথা শুনতে হবে!’

এ সময় কাউন্সিলর আনিস ও মহানগরের নেতা রাকিব হাসান সোহেল, শরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টু, জসিম উদ্দিন আজম ও আনিস আহমেদের দিকে রেগে আসেন। হুমায়ুন কবীর ও সেন্টুর পক্ষে-বিপক্ষের সূত্র ধরে বাগ-বিতণ্ডা হয়। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বারবার থামতে বললেও হট্টগোল চালিয়ে যান তারা। এর ১০ মিনিট পর উপস্থিত অন্য নেতারা আসন থেকে উঠে গিয়ে হট্টগোল থামান।

পরে রাগান্বিত হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে সেন্টু, আনিস, আজমসহ কয়েকজন মিলে আলাদা গ্রুপিং করে। মহানগর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যা তা বলে বেড়ায়।’

হট্টগোলের পর মির্জা আজম সবাইকে থামিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়ে চলে যান। বক্তব্যে মির্জা আজম বলেন, ‘বিভেদ ভুলে দলের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। ভুল বোঝাবুঝি ধরে রাখা যাবে না। দলের প্রয়োজনে এসবের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সভায় একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বাগবিতণ্ডা হয়েছে। পরে আমরা দ্রুত সবাইকে থামিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বড় দলে এসব হয়। বড় সংসারেও হয়। আবার থেমে যায়। এগুলো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অংশও বটে। তবুও যারা সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সামনে রেখে বৈঠকে দায়িত্বহীন আচরণ করেছে তাদের সতর্ক করা হবে।’ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তেমন কিছু হয়নি। জাস্ট কথাবার্তা হয়েছে।’

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এই বর্ধিত সভা বিকাল সাড়ে ৪ টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। একইদিনে অন্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ডেমরা থানা সারুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ প্রধান, সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল হাজারী ও সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন মোল্লাকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

আমাদের সময়

Comments
Loading...