ঢাবির শিক্ষক কোয়ার্টারেও হামলা চালায় ছাত্রলীগ

0 ১১৬

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে দিনভর তাণ্ডব চালান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়সহ ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুইজন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত ৩০ জন আহত হন। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত শিক্ষক কোয়ার্টারেও হামলা চালান মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষক কোয়ার্টারে হামলা চালাচ্ছে- এই ধরনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহানগরের নেতাকর্মীরা শিক্ষক কোয়ার্টারের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। তারা শিক্ষক কোয়ার্টার লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। এ সময় হামলার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন দৈনিক প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আসিফ হাওলাদার।

আসিফ হাওলাদার বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসে মোদিবিরোধী কর্মসূচি শেষে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থিত “স্মৃতি চিরন্তন”র পেছনে অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্রলীগের মহানগরের নেতাকর্মীরা সেদিকে অগ্রসর হন। আমি তাদের পিছু নেই। স্মৃতি চিরন্তন এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ফুলার রোডের দিকে পালাতে থাকেন। তাদের পিছু নেয় ছাত্রলীগ। বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা শিক্ষক কোয়ার্টারে অবস্থান নিয়েছে মনে করে কোয়ার্টারে হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা কোয়ার্টার লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন এবং অকথ্য গালিগালাজ করতে থাকেন।’

আসিফ আরও বলেন, ‘এ সময় আমি বিষয়টি দেখার জন্যে তাদের পেছনে অবস্থান করছিলাম। আমাকে দেখেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তেড়ে আসেন এবং মারতে শুরু করেন।’

হামলায় কোয়ার্টারে কর্মরত নিরাপত্তা রক্ষী জমির উদ্দিন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইদরীস আলী নামে দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আহত হন। তারা বলেন, যখন হামলা হয়, তখন আমরা ভয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আমাদেরও মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভপতি অধ্যাপক দৈনিক আমাদের সময়কে ড. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা যখন ২৫ মার্চ কালরাত্রির মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে কোয়ার্টারে ফিরছিলাম। তখন মারামারির বিষয়টি আমাদেরও দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। কিন্তু কারা কার সঙ্গে মারামারি করছে কিছুই বুঝতে পারিনি। শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় এভাবে ঢুকে পড়া, সেখানে মারামারি করা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, বহিরাগতরা বন্ধ ক্যাম্পাসে এসে নানা ধরনের অপকর্ম করছে। টিএসসি হচ্ছে ছাত্র-শিক্ষকদের মিলন কেন্দ্র, এখন সেটা হয়ে গেছে হাটবাজার। এগুলো বন্ধে আমরা এক্সিকিউটিভ কমিটির একটা মিটিং করব।’

শিক্ষক কোয়ার্টারে হামলার সময়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ বিষয়ে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খোঁজ-খবর রাখছে। তাদের রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উৎসঃ   আমাদের সময়
Comments
Loading...