দুর্নীতি, ভোট চুরি জন্য কী বঙ্গবন্ধু এই স্বাধীনতা এনেছেন: কাদের মির্জা

0 ৯৬

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের শোকসভা বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘এখানকার নেতা, যিনি ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেই মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিত্রার্থ করায় মনে হয়, আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবে। কাজটি প্রশাসনের মাধ্যমে কে বা কারা করেছেন, সেটা আপনারা খবর নেন। এই সংস্কৃতি যদি বাংলাদেশে চলতে থাকে, তাহলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এই জন্য দিয়েছেন? আমার প্রশ্ন। অপরাজনীতি, দুর্নীতি, ভোট চুরি এগুলোর জন্য কী বঙ্গবন্ধু এই স্বাধীনতা এনেছেন? কথা বলতে হবে সবাইকে। শুরু হয়েছে, তরুণদের মধ্যে আজ চেতনার সৃষ্টি হচ্ছে।’

আজ সকাল ১১টায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আত্মহত্যার হুমকি দেন।

কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, গত সংসদ নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে যেভাবে রাতের অন্ধকারে তাঁর বাসা থেকে সিএমএইচে নিয়ে গেছে, অনুরূপ কিছু করার জন্য আজ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব, ওনার স্ত্রীর প্ররোচনায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দেশবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছি, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমি সঙ্গে সঙ্গে আত্মহত্যা করব। আমার ওপর যদি কিছু ঘটাতে আসেন, আমি বলে দিচ্ছি আমি আত্মহত্যা করব। আমি কোনো অসত্যের কাছে মাথা নত করব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সব শিয়ালের এক ডাক। ঢাকা থেকে আরম্ভ করে আমার এলাকা পর্যন্ত। আজ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে অনেকভাবে। আজ আল্লাহ, দলের কিছু ত্যাগী নেতা–কর্মী এবং সাধারণ মানুষ ছাড়া কেউ আমার সঙ্গে নেই। আমার সত্যবচনের পর আস্তে আস্তে অনেকেই আমার কাছ থেকে সরে গেছেন। এ জন্য আমি আতঙ্কিত নই, আমি আরও উজ্জীবিত হচ্ছি। যারা অস্ত্রবাজির সঙ্গে জড়িত, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত, যারা গরিব ভূমিহীনের জমি দখল করেছেন, তারা আজ কেউ আমার সঙ্গে নেই।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হয়তো, আমাকে কেউ পছন্দ করছেন না, আমি সত্য কথা বলাতে। এটাই হচ্ছে আসল কথা। কী করবেন, করেন। যা করার করবেন, দেরি করছেন কেন? পুলিশ দিয়ে আমার ছেলেদের বাড়িতে বাড়িতে অত্যাচার, অস্ত্র ঢুকিয়ে দিয়ে মামলা দিচ্ছেন। ওবায়দুল কাদের এবং তাঁর স্ত্রী বলে দিয়েছেন প্রশাসনকে, যে তাঁর (কাদের মির্জা) সঙ্গে যাতে চতুর্দিকে একটা লোকও না থাকে, সে ব্যবস্থা করো।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘এটা কী দেশ? কী আইন? কোথায় গিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা? আজ কি বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্থা নেই? বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা আজ কোথায়? এটা আমি প্রশ্ন করতে চাই।’

বিডি প্রতিদিন

Comments
Loading...