বড় ভাইয়ের চাকর কীভাবে বিদেশে বাড়ি করে?

0 ৯২

বসুরহাটের পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘চাকর’ জুয়েল কীভাবে বিদেশে বাড়ি করল। মঙ্গলবার রাত ১০টায় তাঁর অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে এ প্রশ্ন ছুড়েছেন বড় ভাইয়ের উদ্দেশে। লাইভে তিনি শাসকদলের কতিপয় নেতার অপকর্ম বিষয়ে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি অপকর্মের সব তথ্য ফাঁস করে দেবেন। তিনি বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমার এখানে দমন-নিপীড়ন বন্ধ করেন আমার কর্মীদের ওপর। ওবায়দুল কাদের সাহেব এগুলো বন্ধ করেন। এগুলো আপনার কারসাজি। বসুরহাটের পৌর মেয়র তাঁর বড় ভাইয়ের উদ্দেশে বলেন, আপনি জুয়েল্লার (জুয়েলের) হুঙ্কারে কেন ভয় পান। আপনার যদি ত্রুটি না থাকে এ ছেলে আপনাকে কীভাবে হুঙ্কার দেয়। আপনার ১০ হাজার বেতনের চাকর। এ চাকর কীভাবে লং-আয়ল্যান্ডে (যুক্তরাষ্ট্র) বাড়ি করে এর হিসাবও আপনাকে দিতে হবে। আপনি তাকে দিয়া নাকি, আপনি ঢাকাতে চাঁদাবাজি করেন, সে বলছে আমাকে দিয়া সবার থেকে চাঁদা উঠায়। আর সে সেখান থেকে সিংহভাগ নিয়া, লং-আয়ল্যান্ডে বাড়ি করছে, গাড়ি কিনছে। আপনার মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তার আজকে আমেরিকা, সিঙ্গাপুরে বাড়ি আছে। এগুলোর সব তথ্য আমার কাছে আছে। মুখ বন্ধ করতে পারবেন না। আমি তো এখন দলে নেই। দলের নেতারা যদি কোনো কারণে তাদের অস্তিত্বের জন্য, এখানে যদি অস্ত্রের ব্যবহার হয় তখন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে এটার জন্য কে দায়ী হবে। যখন আরও কোনো মায়ের বুক খালি হবে এটার জন্য কে দায়ী হবে? ৩০ মিনিটের লাইভে কাদের মির্জা বলেন, প্রথমে তার নিজ এলাকার অপকর্মগুলো তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, নোয়াখালীর অপকর্ম তুলে ধরেছি। কী বিচার করে আমরা দেখি। আজকে আমরা সত্য কথা বলতে গেলে আমাদের মুখ বন্ধ করার জন্য আমাদের কর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমার পৌরসভায় পুলিশ মানুষ উঠতে দেয় না। পৌরসভার ক্যাম্পাস থেকে কীভাবে মানুষ ধরে নেয়। এ সাহস তাদের কে দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের কি আমাকে সত্য বচন থেকে দূরে সরাতে চান? পারবেন না। আমি নামাজের বিছানায় বসে শপথ করেছি, পারবেন না।

চারজন সংবির্ধত : কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিক, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয় মঙ্গলবার। তারা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সন্ধ্যায় টেকের বাজারে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বলেন, বৈষম্য চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ কোম্পানীগঞ্জ চাই।

বাদল বলেন, আজকে যে ব্যক্তি এসপিকে বলে একরাম চৌধুরীর পাদুকা লেহন করে, ওবায়দুল কাদেরের চরিত্রহনন করে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেয় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ বৈষম্যের জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আমরা বৈষম্য চাই না, আমরা শান্তির কোম্পানীগঞ্জ চাই। এ পর্যন্ত আকা মির্জা কোম্পানীগঞ্জে দুজনকে হত্যা করেছে। তার এ গুন্ডাদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে কোম্পানীগঞ্জের শান্তি বিনষ্টকারী আকা মির্জাকে গ্রেফতার করতে হবে।

চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আরিফের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসিবুল হোসেন আলাল, বর্তমান সভাপতি নূরে এ মাওলা রাজু প্রমুখ।

উৎসঃ   বিডি প্রতিদিন
Comments
Loading...