মাধবদীতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ

0 ১০০

মাধবদীতে আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ায় পৌর মেয়র ও তার সমর্থকদের সশস্ত্র হামলায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে আরো অন্তত ৮জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন নরসিংদী সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মাধবদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জাকারিয়া (৪২) ও তার চাচাত ভাই মোঃ আবুল কালাম (৩৪)।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে বুধবার বিকেলে রমণী কমিউনিটি সেন্টারে নবগঠিত মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জিএম তালেব হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব পীরজাদা মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ মাধবদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাধবদী পৌরসভার মেয়র মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক সদলবলে উপস্থিত হয়ে তাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেয়ায় ক্ষোভ ঝাড়েন এবং নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার কমিশনারের প্রতিরোধের মুখে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং পথিমধ্যে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আলম হোসেন বাদলকে মারধর করে চলে যান।

জানা যায়, পরে রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় মাধবদী পৌরসভার সামনে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় জাকারিয়া কমিশনার তার সমর্থকদের নিয়ে পৌরসভা মার্কেটে তাদের অফিসে যাওয়ার পথে মোশাররফ হোসেনের সমর্থকরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার লোকজনকে আহত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে মেয়র মোশাররফ, শহর আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক আহাদ ও মাধবদী পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন অস্ত্র হাতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় আহাদের ছোড়া গুলিতে জাকারিয়া কমিশনার ও আবুল কালাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়াও এসময় আনোয়ার কমিশনারের পক্ষের ৮/১০ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এসময় বিভিন্ন দোকানপাটের সাটারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করলে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় ভুঁইয়া প্লাজা, ইসলাম প্লাজা, পৌরসভা মার্কেট ও স্কুল মার্কেটসহ আশপাশের মার্কেট। গুলিবিদ্ধ উভয়কে প্রথমে সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত মাধবদী বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে গুলিবিদ্ধ জাকারিয়ার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন কমিশনার বলেন, পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে পৌর মেয়র মোশররফ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ভাইকে হত্যার জন্য গুলি করে। তবে মেয়র মোশাররফের মুঠোফোনে বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপার মাধবদী থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান দু’জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার নিশ্চিত করে জানান, এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসেনি।

উৎসঃ   dailynayadiganta
Comments
Loading...