‘মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ইস্যু ব্লাকআউট করতেই সাম্প্রদায়িক হামলা’

0 ১২

দেশের সাম্প্রতিক আলোচিত ইস্যুগুলো যেমন, রোহিঙ্গাক্যাম্পের মতো সুরক্ষিত স্থানে রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন আন্তর্জাতিকভাবে তোলপাড় চলছে ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে দেশের মানুষ বিপর্যস্থ। সেই সময় দেশের সব ইস্যুকে ব্লাকআউট করে দিয়ে সরকার একটা ইস্যু সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নুর বলেন, এই হামলার প্রথম সূত্রপাত হয় ১৩ই অক্টোবর কুমিল্লার একটি মন্দিরে প্রতিমার পাশে কুরআন রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন চাইলে সুন্দরভাবে সমাধান করতে পারত। কিন্তু কুমিল্লায় প্রশাসন সেই ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। প্রশাসনের ব্যর্থতায় কুমিল্লায় সহিংসতা হয়েছে। পুলিশ জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গুলি করে মানুষকে উস্কে দেয়। তারপর সেই ঘটনা গেলো চাঁদপুরে।

চাঁদপুরে একই ঘটনা মিছিল হলো পুলিশ গুলি করে চারজন মানুষকে হত্যা করল, আরও উস্কে গেলো। এরপর চাঁদপুর থেকে ফেনী, ফেনী থেকে নোয়াখালী। সেখানেও গুলি করা হলো। ঘটনাগুলো পরিকল্পনামাফিক এগুতে থাকে। তারপরও রংপুরের পীরগঞ্জে দরিদ্র হিন্দু পল্লীতে আগুন দিলো। এরআগে গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে দেখলাম পুলিশ আগুন দিয়েছে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটানাগুলো ঘটিয়েছে এবং তারা প্রশাসনকেও ব্যবহার করেছে। ভারতীয় গবেষক আশীষ নন্দী বলছেন, সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো ৩/৪ ঘণ্টার বেশি চলতে পারে না। যদি চলে তাহলে বুঝতে হবে প্রশাসন চেয়েছে বিধায় হয়েছে। প্রশাসনও চেয়েছে চলুক তাই চলেছে। নাসিরনগর, রামু, শাল্লায় কিন্তু এরকম লাগাতার ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসন সজাগ হয়েছে। আর ছড়ায়নি। সেদিক থেকে বোঝা যাচ্ছে, এসব ঘটনা একটা মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে বিধায় ছড়িয়েছে। সেজন্য আমরা বলেছি এসব ঘটনায় বিচার বিভাগীয় একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। এ ঘটনাগুলো যখনই ঘটে তখনই একটা লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুলিশের তদন্তের ওপর মানুষের আস্থা নাই। সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেবার ঘটনায় ২জন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়। আর পিবিআই’র তদন্তে বলা হয় পুলিশ জড়িত নয়। বাহিনীর তদন্তের ওপর মানুষের আস্থা নাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি ধারণা বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। সরকার ভিন্নমতকে দমন করবার জন্য নানানভাবে তৎপরতা ও অপকৌশলে লিপ্ত। এই ইস্যুকেগুলোকে কেন্দ্র করে ভিন্ন মতের লোকেদের দায় চাপিয়ে একটা মামলা দেয়া বা তাদেরকে জড়িয়ে একটা হয়রানি করার একটা অপচেষ্টা সরকারের থাকতে পারে। এই সরকারের আমলে যেসব ঘটনা ঘটেছে কোন একটা ঘটনার সুস্পষ্ট তদন্ত হয় নাই। বরং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। সেদিক থেকে বোঝা যাচ্ছে সরকারি দল সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের প্রচ্ছন্ন মদদ দিচ্ছে।

উৎসঃ   মানবজমিন
Comments
Loading...